আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১. (সহীহ) ইবনে ওমর (রাঃ) বলেনঃ আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি বনী ইসরাঈলের মধ্যে থেকে তিন ব্যাক্তি একদা কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে গমন করল। রাত্রি যাপনের উদ্দেশ্যে তারা একটি গুহায় প্রবেশ করল। হঠাৎ পাহাড়ের উপর থেকে প্রকান্ড একটি পাথর আছড়ে পড়ে গুহার দ্বারদেশ বন্ধ করে দিল। এসময় তারা একে অপরকে বললঃ এই প্রকান্ড পাথর থেকে তোমাদেরকে কেউ মুক্তি দিতে পারবে না। তাই প্রত্যেকে স্বীয় সৎআমলের অসীলায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর।

এক ব্যাক্তি দু’আ করতে লাগলঃ আয় আল্লাহ! আমার পিতামাতা উভয়ই অতিবৃদ্ধ ছিলেন। আমি কখনই তাদের আগে কাউকে দুধ পান করাতাম না, না পরিবারের কোন ব্যাক্তিকে না কোন দাস-দাসীকে। একদা গবাদি পশুর জন্য ঘাষ-পাতার অনুসন্ধানে দূরে চলে গিয়েছিলাম। রাতে যখন ফিরে আসি তখন তারা ঘুমিয়ে পড়েন। তাদের জন্য দুধ দহন করে দেখলাম তারা ঘুমন্ত। কিন্তু তাদেরকে দুধ পান করানোর আগে পরিবারের অন্য কাউকে দুধ পান করানো আমি অপছন্দ করলাম। তাই তাদের শিয়রে অবস্থান নিলাম। দুধের পেয়ালা আমার হাতেই থাকল। অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন তারা জাগ্রত হয়। শেষ পর্যন্ত ফজরের আলো উদ্ভাসিত হয়ে গেল। (কোন কোন বর্ণনায় এসেছেঃ সে সময় ছোট ছোট শিশুরা আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার তাড়নায় চিৎকার করছিল)। তারা জাগ্রত হল। তারপর দুধ পান করল। হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজ তোমার সন্তোষটির উদ্দেশ্য করে থাকি, তবে আমাদেরকে এ পাথরের বিপদ থেকে উদ্ধার কর। পাথরটি তখন সামান্য একটু সরে গেল। কিন্তু তারা বের হতে সক্ষম হল না।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ দ্বিতীয় ব্যাক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার এক চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে খুব ভালবাসতাম। তাই তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম। কিন্তু সে রাজি হল না। একবার সে দুর্ভিক্ষের সম্মুখিন হয়ে আমার কাছে আসল। আমি তাকে একশত বিশটি স্বর্ণ মুদ্রা দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দিবে। সে রাজি হল। আমি যখন আমার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পূরাপুরি প্রস্তুত হলাম, তখন সে বললঃ অধিকার ছাড়া সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া আমি তোমার জন্য হালাল মনে করি না। একথায় আমি ভীত হলাম এবং তাকে ছেড়ে দিলাম। অথচ সে আমার কাছে সর্বাধিক ভালবাসার পাত্র ছিল। যে স্বর্ণ মুদ্রা তাকে দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম। আয় আল্লাহ! উক্ত কাজ যদি তোমার সন্তোষটি লাভের উদ্দেশ্যে করে থাকি তবে আমাদের এই বিপদ দূর করে দাও। ফলে পাথরটি আরও একটু সরে গেল। কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হল না।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তৃতীয় ব্যাক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমি কতিপয় শ্রমিক নিয়োগ করি। প্রত্যেককে তাদের পারিশ্রমিকও দিয়ে দেই। কিন্তু এক ব্যাক্তি তার পারিশ্রমিক না নিয়েই চলে যায়। আমি সে পারিশ্রমিকের অর্থ দিয়ে চাষাবাদ করি। ফলে তা থেকে অনেক সম্পদ বৃদ্ধি হয়। বহু দিন পর সে লোক আমার কাছে ফিরে এসে বলেঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার পারিশ্রমিক দাও। আমি বললামঃ এই উট, গরু, ছাগল ও ত্রুীতদাস যা দেখছো তা সবই তোমার পারিশ্রমিক। সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে ঠাট্টা কর না। আমি বললামঃ আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। তখন সে সবগুলোই নিয়ে নিল। কোন কিছুই ছেড়ে গেল না। হে আল্লাহ! এ কাজ যদি তোমার সন্তোষটির উদ্দেশ্যে করে থাকি, তবে আমাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে দাও। তখন পাথরটি সরে গেল এবং তারাও সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হল।’’[1]


وفي رواية: أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  قَالَ: بَيْنَمَا ثَلَاثَةُ نَفَرٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ يَمْشُونَ إِذْ أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فَأَوَوْا إِلَى غَارٍ فَانْطَبَقَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ إِنَّهُ وَاللَّهِ يَا هَؤُلَاءِ لَا يُنْجِيكُمْ إِلَّا الصِّدْقُ فَليَدْعُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْكُمْ بِمَا يَعْلَمُ أَنَّهُ قَدْ صَدَقَ فِيهِ فَقَالَ وَاحِدٌ مِنْهُمْ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ كَانَ لِي أَجِيرٌ عَمِلَ لِي عَلَى فَرَقٍ مِنْ أَرُزٍّ فَذَهَبَ وَتَرَكَهُ وَأَنِّي عَمَدْتُ إِلَى ذَلِكَ الْفَرَقِ فَزَرَعْتُهُ فَصَارَ مِنْ أَمْرِهِ أَنِّي اشْتَرَيْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَأَنَّهُ أَتَانِي يَطْلُبُ أَجْرَهُ فَقُلْتُ لَهُ اعْمِدْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ فَسُقْهَا فَقَالَ لِي إِنَّمَا لِي عِنْدَكَ فَرَقٌ مِنْ أَرُزٍّ فَقُلْتُ لَهُ اعْمِدْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ فَإِنَّهَا مِنْ ذَلِكَ الْفَرَقِ فَسَاقَهَا فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ مِنْ خَشْيَتِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا فَانْسَاحَتْ عَنْهُمْ الصَّخْرَةُ. فذكر الحديث قريبا من الأول

অন্য বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, "তোমাদের পূর্ব জাতির তিন ব্যাক্তি রাস্তা চলছিল। তারা বৃষ্টির সম্মুখিন হলে আশ্রয়ের জন্য একটি গুহায় প্রবেশ করল। এমন সময় গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বললঃ আল্লাহর শপথ এ বিপদ থেকে সত্যবাদিতা ছাড়া তোমাদেরকে কোন কিছুই মুক্ত করতে পারবে না। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের আল্লাহর কাছে এমন আমলের মাধ্যমে দু’আ করা উচিত যাতে সে সততার পরিচয় দিয়েছে।

একজন বললঃ হে আল্লাহ! তুমি ভাল ভাবেই জান, আমার একজন শ্রমিক ছিল। ধানের একটি নির্দিষ্ট মাপের বিনিময়ে সে আমার নিকট কাজ করেছিল। কিন্তু সে তার প্রাপ্য না নিয়েই চলে যায়। আমি সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান কৃষি কাজে ব্যবহার করি ফলে উৎপাদন এমন হয় যা থেকে আমি কতগুলো গরু খরিদ করি। একদিন সে আমার নিকট এসে তার পারিশ্রমিক চায়। আমি বললামঃ ঐ গরুগুলোর কাছে যাও। এগুলো তোমার সেই প্রাপ্য ধান থেকে হয়েছে। তখন সে গরুগুলো নিয়ে চলে গেল। হে আল্লাহ! উক্ত কাজ যদি আমি আপনার ভয়ে করে থাকি তবে আমাদেরকে উদ্ধার কর। তখন পাথর গুহার মুখ থেকে (কিছুটা) সরে গেল........।’’ অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ প্রায় প্রথমটির মতই উল্লেখ করেছেন।

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

1¬- (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُماَ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: انْطَلَقَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَتَّى آوَاهُمُ الْمَبِيتُ إِلَى غَارٍ فَدَخَلُوهُ فَانْحَدَرَتْ صَخْرَةٌ مِنَ الْجَبَلِ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الْغَارَ فَقَالُوْا إِنَّهُ لاَ يُنْجِيكُمْ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ إِلَّا أَنْ تَدْعُوا اللَّهَ بِصَالِحِ أَعْمَالِكُمْ.
فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمُ: اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ وَكُنْتُ لَا أَغْبِقُ قَبْلَهُمَا أَهْلًا وَلَا مَالًا فَنَأَى بِيْ فِيْ طَلَبِ شَجرٍ يَوْمًا فَلَمْ أُرِحْ عَلَيْهِمَا حَتَّى نَامَا فَحَلَبْتُ لَهُمَا غَبُوقَهُمَا فَوَجَدْتُهُمَا نَائِمَيْنِ وَكَرِهْتُ أَنْ أَغْبِقَ قَبْلَهُمَا أَهْلًا أَوْ مَالًا فَلَبِثْتُ وَالْقَدَحُ عَلَى يَدَيَّ أَنْتَظِرُ اسْتِيقَاظَهُمَا حَتَّى بَرَقَ الْفَجْرُ فَاسْتَيْقَظَا فَشَرِبَا غَبُوقَهُمَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ فَانْفَرَجَتْ شَيْئًا لاَ يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوجَ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
قَالَ الْآخَرُ: اللَّهُمَّ كَانَتْ لِيْ بِنْتُ عَمٍّ كَانَتْ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَيَّ فَأَرَدْتُهَا عَنْ نَفْسِهَا فَامْتَنَعَتْ مِنِّي حَتَّى أَلَمَّتْ بِهَا سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ فَجَاءَتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلِّيَ بَيْنِي وَبَيْنَ نَفْسِهَا فَفَعَلَتْ حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا قَالَتْ لاَ أُحِلُّ لَكَ أَنْ تَفُضَّ الْخَاتَمَ إِلاَّ بِحَقِّهِ فَتَحَرَّجْتُ مِنَ الْوُقُوعِ عَلَيْهَا فَانْصَرَفْتُ عَنْهَا وَهِيَ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أَعْطَيْتُهَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لاَ يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوجَ مِنْهَا. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
قَالَ الثَّالِثُ: اللَّهُمَّ إِنِّي اسْتَأْجَرْتُ أُجَرَاءَ فَأَعْطَيْتُهُمْ أَجْرَهُمْ غَيْرَ رَجُلٍ وَاحِدٍ تَرَكَ الَّذِي لَهُ وَذَهَبَ فَثَمَّرْتُ أَجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنْهُ الْأَمْوَالُ فَجَاءَنِي بَعْدَ حِينٍ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَدِّ إِلَيَّ أَجْرِي فَقُلْتُ لَهُ كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أَجْرِكَ مِنَ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ وَالرَّقِيقِ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ لَا تَسْتَهْزِئُ بِي فَقُلْتُ إِنِّي لَا أَسْتَهْزِئُ بِكَ فَأَخَذَهُ كُلَّهُ فَاسْتَاقَهُ فَلَمْ يَتْرُكْ مِنْهُ شَيْئًا اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ.

1¬- (صحيح) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: انطلق ثلاثة رهط ممن كان قبلكم حتى اواهم المبيت الى غار فدخلوه فانحدرت صخرة من الجبل فسدت عليهم الغار فقالوا انه لا ينجيكم من هذه الصخرة الا ان تدعوا الله بصالح اعمالكم. فقال رجل منهم: اللهم كان لي ابوان شيخان كبيران وكنت لا اغبق قبلهما اهلا ولا مالا فناى بي في طلب شجر يوما فلم ارح عليهما حتى ناما فحلبت لهما غبوقهما فوجدتهما ناىمين وكرهت ان اغبق قبلهما اهلا او مالا فلبثت والقدح على يدي انتظر استيقاظهما حتى برق الفجر فاستيقظا فشربا غبوقهما اللهم ان كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك ففرج عنا ما نحن فيه من هذه الصخرة فانفرجت شيىا لا يستطيعون الخروج. قال النبي صلى الله عليه وسلم : قال الاخر: اللهم كانت لي بنت عم كانت احب الناس الي فاردتها عن نفسها فامتنعت مني حتى المت بها سنة من السنين فجاءتني فاعطيتها عشرين وماىة دينار على ان تخلي بيني وبين نفسها ففعلت حتى اذا قدرت عليها قالت لا احل لك ان تفض الخاتم الا بحقه فتحرجت من الوقوع عليها فانصرفت عنها وهي احب الناس الي وتركت الذهب الذي اعطيتها اللهم ان كنت فعلت ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه فانفرجت الصخرة غير انهم لا يستطيعون الخروج منها. قال النبي صلى الله عليه وسلم : قال الثالث: اللهم اني استاجرت اجراء فاعطيتهم اجرهم غير رجل واحد ترك الذي له وذهب فثمرت اجره حتى كثرت منه الاموال فجاءني بعد حين فقال يا عبد الله اد الي اجري فقلت له كل ما ترى من اجرك من الابل والبقر والغنم والرقيق فقال يا عبد الله لا تستهزى بي فقلت اني لا استهزى بك فاخذه كله فاستاقه فلم يترك منه شيىا اللهم فان كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه فانفرجت الصخرة فخرجوا يمشون.

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

২. (সহীহ্) ইবনে হিব্বান হাদীছটি আবু হুরায়রার বরাতে সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। “পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার’’ অনুচ্ছেদে তার বর্ণনা আসবে। ইনশাআল্লাহ।

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

2 - ( صحيح ) ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه باختصار ويأتي لفظه في بر الوالدين إن شاء الله تعالى قوله " وكنت لا أغبق قبلهما أهلا ولا مالا "

2 - ( صحيح ) ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث ابي هريرة رضي الله عنه باختصار وياتي لفظه في بر الوالدين ان شاء الله تعالى قوله " وكنت لا اغبق قبلهما اهلا ولا مالا "

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৩. (সহীহ্) আবু ফেরাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আসলাম গোত্রের লোক। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি ডাক দিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কি? তিনি বললেন, ’’ইখলাস বা একনিষ্ঠতা।’’[1]

অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদা) বললেনঃ
’’যা ইচ্ছা তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর।’’

তখন জনৈক ব্যক্তি ডাক দিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কি?
তিনি বললেনঃ ’’সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা।’’
সে বলল, ঈমান কি?
তিনি বললেনঃ ’’ইখলাস বা একনিষ্ঠতা।’’
সে বলল, ইয়াক্বীন কি?
তিনি বললেনঃ ’’(ইসলাম ধর্মের যাবতীয় বিষয়কে) সত্য প্রতিপন্ন করা।’’[2]

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বায়হাক্বী)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

3 -(صحيح) عَنْ أَبِي فِرَاسٍ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ، قَالَ: نَادَى رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: " الْإِخْلَاصُ ".
وفي لفظ آخر قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ "، فَنَادَى رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا الْإِسْلَامُ ؟ قَالَ: " إِقَامُ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ "، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ ؟ قَالَ: " الْإِخْلَاصُ "، قَالَ: فَمَا الْيَقِينُ ؟ قَالَ: " التَّصْدِيقُ بالْقيامةِ. رواه البيهقي

3 -(صحيح) عن ابي فراس رجل من اسلم، قال: نادى رجل، فقال: يا رسول الله، ما الايمان؟ قال: " الاخلاص ". وفي لفظ اخر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : سلوني عما شىتم "، فنادى رجل: يا رسول الله، ما الاسلام ؟ قال: " اقام الصلاة وايتاء الزكاة "، قال: فما الايمان ؟ قال: " الاخلاص "، قال: فما اليقين ؟ قال: " التصديق بالقيامة. رواه البيهقي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ফিরাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে বলেনঃ

“আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যাক্তির মুখমণ্ডল উজ্জল করুন (তাকে সম্মানিত করুন) যে ব্যাক্তি আমার কথা শুনে তা মুখস্ত রেখেছে। কেননা এমন কতই না জ্ঞান বহনকারী রয়েছে, অথচ সে ফকীহ (জ্ঞানী) নয়। তিনটি বিষয়ে কোন মুমিন ব্যাক্তির অন্তরে হিংসা প্রবেশ করতে পারে না। (১) আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা। (২) মুসলমানদের নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা। (৩) মুসলমানদের জামাতকে আকড়ে ধরা। কেননা তাদের দু’আ তাদের পরবর্তীদেরকেও বেষ্টন করে।’’[1]

(হাদীছটি বায্যার হাসান সনদে বর্ণনা করেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(4) (صحيح لغيره) وَعَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال في حجة الوداع نَضَّرَ اللهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا , فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ. ثَلاثٌ لا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُؤْمِنٍ : إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَالنَّصِيحَةُ لأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ ، وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ ، تُحِيطُ مَنْ وَرَاءَهُمْ. رواه البزار بإسناد حسن

(4) (صحيح لغيره) وعن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال في حجة الوداع نضر الله عبدا سمع مقالتي فوعاها , فرب حامل فقه ليس بفقيه. ثلاث لا يغل عليهن قلب مومن : اخلاص العمل لله والنصيحة لاىمة المسلمين ، ولزوم جماعتهم ، فان دعوتهم ، تحيط من وراءهم. رواه البزار باسناد حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৫. (সহীহ্) এ হাদীছটি ইবনে হিব্বানও [সহীহ্] গ্রন্থে যায়েদ বিন ছাবেত থেকে বর্ণনা করেন।  “হাদীছ শ্রবণ’’ অনুচ্ছেদে এর বর্ণনা আসবে ইনশাআল্লাহ্।

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

-

-

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৬. (সহীহ্) মুসআব বিন সা’দ তার পিতা সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (সাদ) একবার মনে করলেন গণীমতের মালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর অন্যান্য সাহাবীর তুলনায়- তার বেশী অধিকার আছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ

’’আল্লাহ তো এই উম্মতের দূর্বল ব্যাক্তিদের মাধ্যমে তাদেরকে সাহায্য করে থাকেন- তাদের দু’আ, সালাত ও (কর্মে) ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার মাধ্যমে।’’[1]

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(6) (صحيح) و عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ ظَنَّ أَنَّ لَهُ فَضْلًا عَلَى مَنْ دُونَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِضَعِيفِهَا بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلَاتِهِمْ وَإِخْلَاصِهِمْ. رواه النسائي وغيره وهو في البخاري وغيره دون ذكر الإخلاص

(6) (صحيح) و عن مصعب بن سعد عن ابيه رضي الله عنه انه ظن ان له فضلا على من دونه من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم انما ينصر الله هذه الامة بضعيفها بدعوتهم وصلاتهم واخلاصهم. رواه النساىي وغيره وهو في البخاري وغيره دون ذكر الاخلاص

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৭. (সহীহ্ লি গাইরিহী) যাহ্হাক বিন ক্বায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

’’আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলা বলেন, আমি উত্তম শরীক। (কোন আমলে) আমার সাথে কেউ যদি শরীক করে তবে উহা আমার শরীকের জন্যেই সাবস্ত্য হবে। হে লোক সকল! তোমরা একনিষ্ঠভাবে আমল কর। কেননা আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলা একনিষ্ঠভাবে যা তার জন্যে করা হয় তা ব্যতীত অন্য কোন আমল কবূল করেন না। তোমরা এরূপ বলো না যে, এ আমলটি আল্লাহর জন্যে এবং আত্মীয়ের জন্যে। কেননা উহা আত্মীয়ের জন্যেই সাবস্ত্য হবে। তাতে আল্লাহর কোন অংশ থাকবে না। তোমরা এরূপ বলো না যে, এ আমলটি আল্লাহর জন্যে এবং তোমাদের সন্তুষ্টির জন্যে। কেননা উহা তোমাদের উদ্দেশ্যেই সাবস্ত্য হবে। তাতে আল্লাহর কোন অংশ থাকবে না।’’[1]

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(7) (صحيح لغيره) وَعَنْ الضحاك بن قيس قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ أَنَا خَيْرُ شَرِيكٍ فَمَنْ أَشْرَكَ مَعِى شَرِيكًا فَهُوَ لِشَرِيكِى يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَخْلِصُوا أَعْمَالَكُمْ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ مَا أُخْلِصَ لَهُ وَلاَ تَقُولُوا هَذَا لِلَّهِ وَلِلرَّحِمِ فَإِنَّهَا لِلرَّحِمِ وَلَيْسَ لِلَّهِ مِنْهَا شَىْءٌ وَلاَ تَقُولُوا هَذَا لِلَّهِ وَلِوُجُوهِكُمْ فَإِنَّهَا لِوُجُوهِكُمْ وَلَيْسَ لِلَّهِ مِنْهَا شَىْءٌ. رواه البزار بإسناد لا بأس به والبيهقي

(7) (صحيح لغيره) وعن الضحاك بن قيس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ان الله عز وجل يقول انا خير شريك فمن اشرك معى شريكا فهو لشريكى يا ايها الناس اخلصوا اعمالكم لله عز وجل فان الله لا يقبل الا ما اخلص له ولا تقولوا هذا لله وللرحم فانها للرحم وليس لله منها شىء ولا تقولوا هذا لله ولوجوهكم فانها لوجوهكم وليس لله منها شىء. رواه البزار باسناد لا باس به والبيهقي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৮. (হাসান) আবু উমামাহ্ (রাঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট এসে বললঃ এমন লোক সম্পর্কে আপনি কি মনে করেন, যে ছোয়াব ও প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে- সে কি প্রতিদান পাবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ

’’তার জন্য কোনই প্রতিদান নেই। লোকটি তিন বার কথাটি পূণরাবৃত্তি করলে প্রতিবারই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইখলাছ ও তার সন্তোষটির উদ্দেশ্য ছাড়া কোন আমল কবূল করবেন না।’’[1]

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ও নাসাঈ উত্তম সনদে। এ ধরণের হাদীছ জিহাদ অধ্যায়ে আসবে ইনশাআল্লাহ)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(8) (حسن) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَالَهُ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنْ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ. رواه أبو داود والنسائي بإسناد جيد

(8) (حسن) وعن ابي امامة الباهلي قال: جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ارايت رجلا غزا يلتمس الاجر والذكر ماله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا شيء له فاعادها ثلاث مرات يقول له رسول الله صلى الله عليه وسلم لا شيء له ثم قال ان الله لا يقبل من العمل الا ما كان له خالصا وابتغي به وجهه. رواه ابو داود والنساىي باسناد جيد

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

৯. (হাসান লি গাইরিহী) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

’’দুনিয়া অভিশপ্ত। উহার মধ্যস্তিত সকল বস্তুও অভিশপ্ত। তবে যে কাজের মাধ্যমে আল্লাহ সন্তোষটি কামনা করা হয় তা অভিশপ্ত নয়।’’[1]

(হাদীছটি ত্বাবরানী বর্ণনা করেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(9) (حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: الدنيا ملعونة ملعون ما فيها إلا ما ابتغي به وجه الله تعالى. رواه الطبراني

(9) (حسن لغيره) وعن ابي الدرداء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: الدنيا ملعونة ملعون ما فيها الا ما ابتغي به وجه الله تعالى. رواه الطبراني

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১০

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১০. (সহীহ্) ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ

“যাবতীয় আমল (শুদ্ধ না অশুদ্ধ তা) নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যাক্তি যা নিয়ত করে তাই রয়েছে তার জন্য। সুতরাং যে ব্যাক্তি আল্লাহ এবং তার রাসূলের প্রতি হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ্ ও তার রাসূলের প্রতি বলেই গণ্য হবে। আর যে ব্যাক্তির হিজরত দুনিয়া অর্জন বা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্য হবে, তার হিজরত যে উদ্দেশ্য করেছে সে দিকেই গণ্য হবে।’’[1]

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ) 

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(10) (صحيح) عن عمر بن الخطاب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بالنية وفي رواية بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ. رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي

(10) (صحيح) عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: انما الاعمال بالنية وفي رواية بالنيات وانما لامرى ما نوى فمن كانت هجرته الى الله ورسوله فهجرته الى الله ورسوله ومن كانت هجرته الى دنيا يصيبها او امراة ينكحها فهجرته الى ما هاجر اليه. رواه البخاري ومسلم وابو داود والترمذي والنساىي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১১

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১১. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

’’একদল সৈনিক কাবা শরীফে যুদ্ধ করতে আসবে। তারা যখন "বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে কখন তাদের প্রথম ও শেষ ব্যাক্তিকে নিয়ে যমীন ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। আমি (আয়েশা) বললামঃ কেমন করে তাদের প্রথম ও শেষ ব্যাক্তিকে যমীনে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে, অথচ তাদের মধ্যে এমন লোকও তো রয়েছে যারা হাটে-বাজারে বেচা-কেনায় লিপ্ত থাকবে এবং এমনও লোক থাকবে যারা সে সৈনিক দলের অন্তর্ভুক্ত নয়? তিনি বললেনঃ তাদের প্রথম ও শেষ ব্যাক্তিকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর নিয়ত অনুযায়ী তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।’’[1]

(হাদীছটি ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(11) (صحيح) وَعَنْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو جَيْشٌ الْكَعْبَةَ فَإِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنْ الْأَرْضِ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ وَفِيهِمْ أَسْوَاقُهُمْ وَمَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ قَالَ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ ثُمَّ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ. رواه البخاري ومسلم وغيرهما

(11) (صحيح) وعن عاىشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يغزو جيش الكعبة فاذا كانوا ببيداء من الارض يخسف باولهم واخرهم قالت قلت يا رسول الله كيف يخسف باولهم واخرهم وفيهم اسواقهم ومن ليس منهم قال يخسف باولهم واخرهم ثم يبعثون على نياتهم. رواه البخاري ومسلم وغيرهما

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১২

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১২. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে এলাম। এসময় তিনি বললেনঃ

’’আমাদের পশ্চাতে কতিপয় লোক মদীনায় রয়ে গেছে। আমরা এমন কোন পর্বতময় পথ ও উপত্যকা অতিক্রম করিনি যেখানে তারা আমাদের সাথে ছিল না। (অর্থাৎ আমাদের বরাবর প্রতিদান লাভ করেছে)। কেননা ওযর তাদেরকে বের হতে বাধা দিয়েছে।’’ (বুখারী ২৮৩৯)

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ও আবু দাউদ, তবে আবু দাউদের বর্ণনা এভাবে

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

لَقَدْ تَرَكْتُمْ بِالْمَدِينَةِ أَقْوَامًا مَا سِرْتُمْ مَسِيرًا وَلَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ وَلَا قَطَعْتُمْ مِنْ وَادٍ إِلَّا وَهُمْ مَعَكُمْ فِيهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَكُونُونَ مَعَنَا وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ: حَبَسَهُمْ الْمَرَضُ.

’’তোমরা মদীনায় একদল লোককে ছেড়ে এসেছ। তোমরা যে পথই চলেছো, যে অর্থই খরচ করেছো এবং যে উপত্যকাই পাড়ি দিয়েছো- তারা তোমাদের সাথেই রয়েছে। তারা প্রশ্ন করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে তারা আমাদের সাথে থাকল, অথচ তারা তো মদীনাতেই রয়েছে? তিনি বললেনঃ (এই কারণে যে) অসুস্থতা তাদেরকে তোমাদের সাথে থাকতে বাধা দিয়েছে।’’ (আবূ দাউদ ২৫০৮)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(12) (صحيح) وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي غَزَاةٍ فَقَالَ إِنَّ أَقْوَامًا بِالْمَدِينَةِ خَلْفَنَا مَا سَلَكْنَا شِعْبًا وَلَا وَادِيًا إِلَّا وَهُمْ مَعَنَا فِيهِ حَبَسَهُمْ الْعُذْرُ. رواه البخاري وأبو داود

(12) (صحيح) وعن انس رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم كان في غزاة فقال ان اقواما بالمدينة خلفنا ما سلكنا شعبا ولا واديا الا وهم معنا فيه حبسهم العذر. رواه البخاري وابو داود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৩

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৩) (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী (কিয়ামতের দিন) উঠানো হবে।’’

(ইবনে মাজাহ হাদীছটি হাসান সনদে বর্ণনা করেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(13) (صحيح لغيره) عنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّمَا يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ. رواه ابن ماجه بإسناد حسن

(13) (صحيح لغيره) عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : انما يبعث الناس على نياتهم. رواه ابن ماجه باسناد حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৪

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) তিনি (ইবনে মাজাহ্) জাবের (রাঃ) থেকেও অত্র হাদীছটি বর্ণনা করেছেনঃ তবে তিনি বলেন,

’’মানুষকে হাশরের মাঠে একত্রিত করা হবে তাদের নিয়ত অনুযায়ী।’’

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(14) (صحيح لغيره) ورواه أيضا من حديث جابر إلا أنه قال: يُحْشَرُ النَّاسُ

(14) (صحيح لغيره) ورواه ايضا من حديث جابر الا انه قال: يحشر الناس

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৫

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৫. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

’’নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দেহ এবং আকার-আকৃতি দেখেন না: বরং তিনি দেখে থাকেন তোমাদের অন্তর।’’ [একথা বলে তিনি আঙ্গুল দ্বারা নিজের বুকের দিকে ইঙ্গিত করলেন।] এবং তিনি দেখে থাকেন তোমাদের আমল।’’

 (ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(15) (صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لا يَنْظُرُ إِلَى أَجْسَامِكُمْ وَلا إِلَى صُوَرِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ [وأشار بأصابعه إلى صدره]، [وأعْماَلِكُمْ]" رواه مسلم

(15) (صحيح) وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ان الله عز وجل لا ينظر الى اجسامكم ولا الى صوركم، ولكن ينظر الى قلوبكم [واشار باصابعه الى صدره]، [واعمالكم]" رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৬

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু কাবশা আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ

’’তিনটি বিষয়ের উপর আমি শপথ করছি এবং তোমাদের কাছে একটি হাদীছ বর্ণনা করছি, তোমরা তা মুখস্ত করে রাখ। তিনি বলেনঃ উক্ত তিনটি বিষয় হল (১) সাদকা করলে কোন বান্দার সম্পদ কমে না। (২) কোন বান্দার উপর জুলুম করা হলে সে যদি ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (৩) যখনই কোন বান্দা ভিক্ষার দরজা খুলে দিবে তখনই আল্লাহ তার জন্য অভাবের দ্বার উন্মুক্ত করে দিবেন।’’ (অথবা তিনি এ জাতীয় একটা কথা বলেছেন) এবং তোমাদের নিকট আরেকটি হাদীছ বর্ণনা করছি, তোমরা উহা মুখস্ত করে রাখঃ

’’দুনিয়াটা চার প্রকার মানুষের জন্য। (১) একজন বান্দা, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন। সে তাতে তার পালনকর্তাকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তাতে আল্লাহর হক আছে তাও বুঝে (এবং তা আদায় করে)। এব্যাক্তি সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী। (২) অপর এক বান্দা, আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু সম্পদ দেন নাই। কিন্তু সে সৎ নিয়তের অধিকারী। সে বলেঃ আমার যদি সম্পদ থাকত তবে উমুক (প্রথম) ব্যাক্তির ন্যায় তা ব্যবহার করতাম। সে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। উভয়ে সমান প্রতিদান পাবে। (৩) তৃতীয় বান্দা, আল্লাহ তাকে সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু জ্ঞান দেন নাই। সে স্বীয় সম্পদ মূর্খতাবশতঃ অন্যায় কাজে ব্যয় করে। তাতে নিজ পালনকর্তাকেও ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্কও রক্ষা করে না, আল্লাহর কোন হকও আদায় করে না। এ ব্যাক্তি নিকৃষ্টতম মানের অধিকারী। (৪) চতুর্থ বান্দা, আল্লাহ তাকে কোন সম্পদও দেন নাই, জ্ঞানও দান করেন নাই। সে বলেঃ আমার যদি সম্পদ থাকত, তবে উমুক (তৃতীয়) ব্যাক্তির মত (অন্যায় কাজে) তা ব্যয় করতাম, সেও তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। আর উভয় ব্যাক্তির পাপ এক সমান।’’

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ, তিরমিযী ২৩২৫ ও ইবনে মাজাহ ৪২২৮) তবে ইবনে মাজার বর্ণনা এভাবেঃ

(সহীহ্) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

مَثَلُ هَذِهِ الْأُمَّةِ كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي حَقِّهِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  فَهُمَا فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ اللَّهُ عِلْمًا وَلَا مَالًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ.

’’এ উম্মতের উদাহরণ চার ব্যাক্তির ন্যায়ঃ (১) এক ব্যাক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন। স্বীয় সম্পদে সে ইলম অনুযায়ী আমল করে থাকে। হক পথে তা ব্যয় করে। (২) অপর এক ব্যাক্তি, আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু কোন সম্পদ দেন নাই। সে বলেঃ এই ব্যাক্তির মত যদি আমার (সম্পদ) থাকত তবে তার মত আমি তা ব্যবহার করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ উভয় ব্যাক্তি প্রতিদানের ক্ষেত্রে বরাবর। (৩) তৃতীয় এক ব্যাক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু কোন জ্ঞান দান করেননি, ফলে সে তার সম্পদে মূর্খতা সুলভ আচরণ করে, নাহক পথে তা ব্যয় করে। (৪) চতুর্থ ব্যাক্তি, আল্লাহ তাকে না দিয়েছেন ধন-সম্পদ না দিয়েছেন জ্ঞান। সে বলেঃ এ ব্যাক্তির ন্যায় যদি আমার (সম্পদ) থাকত, তবে এমন ভাবে তা ব্যবহার করতাম, যেমন এ ব্যাক্তি করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ উভয় ব্যাক্তি পাপের ক্ষেত্রে এক সমান।’’

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(16) (صحيح لغيره) وَعَنْ أَبي كَبْشَةَ الْأَنَّمَارِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ثَلَاثَةٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ قَالَ مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ وَلَا ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلَمَةً فَصَبَرَ عَلَيْهَا إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ عِزًّا وَلَا فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ.
قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نَفَرٍ عَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَلَا يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَلَا يَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَخْبَثِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللَّهُ مَالًا وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ
رواه أحمد والترمذي واللفظ له وقال حديث حسن صحيح

(16) (صحيح لغيره) وعن ابي كبشة الانماري انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ثلاثة اقسم عليهن واحدثكم حديثا فاحفظوه قال ما نقص مال عبد من صدقة ولا ظلم عبد مظلمة فصبر عليها الا زاده الله عزا ولا فتح عبد باب مسالة الا فتح الله عليه باب فقر او كلمة نحوها واحدثكم حديثا فاحفظوه. قال انما الدنيا لاربعة نفر عبد رزقه الله مالا وعلما فهو يتقي فيه ربه ويصل فيه رحمه ويعلم لله فيه حقا فهذا بافضل المنازل وعبد رزقه الله علما ولم يرزقه مالا فهو صادق النية يقول لو ان لي مالا لعملت بعمل فلان فهو بنيته فاجرهما سواء وعبد رزقه الله مالا ولم يرزقه علما فهو يخبط في ماله بغير علم لا يتقي فيه ربه ولا يصل فيه رحمه ولا يعلم لله فيه حقا فهذا باخبث المنازل وعبد لم يرزقه الله مالا ولا علما فهو يقول لو ان لي مالا لعملت فيه بعمل فلان فهو بنيته فوزرهما سواء رواه احمد والترمذي واللفظ له وقال حديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৭

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৭. (সহীহ্) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সম্মানিত মহান পালনকর্তা হতে বর্ণনা করে বলেনঃ

’’নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সৎ কর্মসমূহ এবং অসৎকর্ম সমূহ লিখে রেখেছেন। অতঃপর উহা স্বীয় কিতাবে (কুরআনে) বিশুদ্ধভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। অতএব যে ব্যাক্তি সৎ কাজের ইচ্ছা করে, অতঃপর উহা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম না হয়, তবে আল্লাহ উহা পূর্ণ একটি সৎকর্ম হিসেবে লিখে নেন। আর ইচ্ছা করার পর যদি তা কর্মে বাস্তবায়ন করে, তবে আল্লাহ সে সৎকর্মটিকে দশ থেকে সাতশত থেকে আরো অনেক গুণে বৃদ্ধি করে লিখে নেন। আর যে ব্যাক্তি কোন অসৎকর্ম করার ইচ্ছা পোষণ করে অতঃপর উহা কর্মে বাস্তবায়ন না করে, তবে আল্লাহ উহা একটি পূর্ণ সৎকর্ম হিসেবে লিখে নেন। আর ইচ্ছা করার পর যদি উহা বাস্তবায়ন করে তবে আল্লাহ তা একটি মাত্র পাপ কাজ হিসেবে লিখে থাকেন।’’

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৪৯১ ও মুসলিম ৩৫৫) মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ

’’আল্লাহ তা একটিমাত্র পাপ হিসেবে লিখে থাকেন অথবা তা মিটিয়ে দেন। আর আল্লাহর ব্যাপারে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাক্তি মাত্রই ধ্বংস হয়ে থাকে।’’

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(17) (صحيح) وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَة" زاد في رواية: "أو محاها ولا يهلك [على] الله إلا هالك" رواه البخاري ومسلم

(17) (صحيح) وعن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يروي عن ربه عز وجل قال قال ان الله كتب الحسنات والسيىات ثم بين ذلك فمن هم بحسنة فلم يعملها كتبها الله له عنده حسنة كاملة فان هو هم بها فعملها كتبها الله له عنده عشر حسنات الى سبع ماىة ضعف الى اضعاف كثيرة ومن هم بسيىة فلم يعملها كتبها الله له عنده حسنة كاملة فان هو هم بها فعملها كتبها الله له سيىة واحدة" زاد في رواية: "او محاها ولا يهلك [على] الله الا هالك" رواه البخاري ومسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৮

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৮. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

’’আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমার বান্দা যখন কোন অসৎ কর্ম করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন তা কর্মে বাস্তবায়ন করা পর্যন্ত তোমরা (ফেরেশতাকুল) কিছুই লিখিও না। যদি কর্মে বাস্তবায়ন করে তবে সে কর্ম অনুরূপ তার পাপ লিখ। আর যদি তা আমার কারণে পরিত্যাগ করে, তবে উহা তার জন্য একটি পূণ্য হিসেবে লিখে নাও।

আর যদি কোন সৎকর্মের ইচ্ছা করে অতঃপর তা বাস্তবায়ন না করে তবে তা একটি পূণ্য হিসেবে লিখে নাও। আর যদি তা কর্মে বাস্তবায়ন করে, তবে তা দশ থেকে সাতশতগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে লিখে নাও।’’

(বুখারী ও মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তবে বাক্যগুলো বুখারী থেকে গৃহীত)

মুসলিমের অপর রেওয়ায়াতে এসেছেঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً وَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرًا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا لَمْ تُكْتَبْ وَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ.

’’যে ব্যাক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করে, অতঃপর তা বাস্তবায়ন না করে, তবে তার জন্য একটি পূণ্য লেখা হয়। আর যে ব্যাক্তি সৎকর্মের ইচ্ছা করার পর তা বাস্তবায়ন করে, তবে তার জন্য দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত নেকী লিখা হয়। আর যে ব্যাক্তি অসৎ কাজের ইচ্ছা করে তা বাস্তবায়ন না করে, তবে তার কোন পাপ লিখা হয় না। আর যদি বাস্তবায়ন করে তবে তা লিখা হয়।’’

মুসলিমের আর এক বর্ণনায় রয়েছেঃ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا تَحَدَّثَ عَبْدِي بِأَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ حَسَنَةً مَا لَمْ يَعْمَلْ فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَإِذَا تَحَدَّثَ بِأَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَأَنَا أَغْفِرُهَا لَهُ مَا لَمْ يَعْمَلْهَا فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً إِنَّمَا تَرَكَهَا مِنْ جَرَّايَ

’’সম্মানিত মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যখন মনে মনে বলে যে, সে একটি সৎকাজ করবে, তখন উহা বাস্তবায়ন না করলে আমি উহা একটি সৎকাজ হিসেবে লিখে নেই। আর যদি বাস্তবায়ন করে, তবে তাকে দশগুণ বৃদ্ধি করে লিখে থাকি। আর যখন আমার বান্দা মনে মনে বলে যে, সে একটি খারাপ কাজ করবে, তখন উহা বাস্তবায়ন না করলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। আর যদি বাস্তবায়ন করে, তবে সে কাজের অনুরূপ আমি পাপ লিখে থাকি। আর যদি উহা বাস্তবায়ন করা ছেড়ে দেয় তবে (হে ফেরেশতাকুল) তার জন্য একটি পূণ্য লিখে নাও। কেননা সে উহা একমাত্র আমার কারণেই পরিত্যাগ করেছে।’’

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(18) (صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: " إِذَا أَرَادَ عَبْدِي بعْمَلَ سَيِّئَةً فَلا تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا، فإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا، وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا حَسَنَةً، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا حَسَنَةً، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ." رواه البخاري واللفظ له ومسلم

(18) (صحيح) وعن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله عز وجل: " اذا اراد عبدي بعمل سيىة فلا تكتبوها عليه حتى يعملها، فان عملها فاكتبوها بمثلها، وان تركها من اجلي فاكتبوها حسنة، فاذا اراد ان يعمل حسنة فلم يعملها فاكتبوها حسنة، فان عملها فاكتبوها بعشر امثالها الى سبعماىة ضعف." رواه البخاري واللفظ له ومسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৯

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৯. (সহীহ্) মা’ন বিন ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা ইয়াযীদ কিছু দীনার বের করলেন দান করার উদ্দেশ্যে। অতঃপর মসজিদে গিয়ে এক ব্যাক্তির নিকট রেখে দিলেন। (ঘটনাক্রমে আমি ছিলাম সে ব্যাক্তি) আমি উহা নিয়ে তার নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম আমি তোমাকে উদ্দেশ্য করি নাই। তখন ব্যাপারটির ফায়সালার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) নিকট পেশ করলাম। তিনি বললেনঃ

’’হে ইয়াযীদ তুমি যা নিয়ত করেছ তার ছোয়াব পেয়ে যাবে। আর হে মা’ন যা তোমার হস্তগত হয়েছে তা তোমারই।’’

(ইমাম বুখারী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

(19) (صحيح) وَعَنْ معن بن يزيد رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال كَانَ أَبِي يَزِيدُ أَخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتَصَدَّقُ بِهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ وَاللَّهِ مَا إِيَّاكَ أَرَدْتُ فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَكَ مَا نَوَيْتَ يَا يَزِيدُ وَلَكَ مَا أَخَذْتَ يَا مَعْنُ. رواه البخاري

(19) (صحيح) وعن معن بن يزيد رضي الله عنهما قال كان ابي يزيد اخرج دنانير يتصدق بها فوضعها عند رجل في المسجد فجىت فاخذتها فاتيته بها فقال والله ما اياك اردت فخاصمته الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لك ما نويت يا يزيد ولك ما اخذت يا معن. رواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
১৯

পরিচ্ছেদঃ ১) ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

১৯. (হাসান সহীহ্) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। হাদীছটি তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

’’যে ব্যাক্তি বিছানায় শয়ন করবে এই নিয়তে যে, সে রাতে কিয়ামুল লায়ল তথা নফল ছালাত আদায় করবে। কিন্তু তার চোখ তাকে পরাজিত করে দেয় ফলে (জাগ্রত হতে না পারার কারণে নামাযও আদায় করতে পারে না) সকাল হয়ে যায়। তবে সে যা নিয়ত করেছিল তা তার জন্য লিখে দেয়া হয়। আর নিদ্রা তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সাদকা স্বরূপ হয়ে যায়।

(হাদীছটি নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ উত্তম সনদে বর্ণনা করেন এবং ইবনে হিব্বান স্বীয় সহীহ্ গ্রন্থে আবু যার অথবা আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন।)

الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة

২১(حسن صحيح) عَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى فِرَاشَهُ وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يَقُومَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ حَتَّى أَصْبَحَ كُتِبَ لَهُ مَا نَوَى وَكَانَ نَوْمُهُ صَدَقَةً عَلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ. رواه النسائي وابن ماجه بإسناد جيد ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث أبي ذر أو أبِيْ الدَّرْداَءِ.

২১(حسن صحيح) عن ابي الدرداء يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال من اتى فراشه وهو ينوي ان يقوم يصلي من الليل فغلبته عيناه حتى اصبح كتب له ما نوى وكان نومه صدقة عليه من ربه عز وجل. رواه النساىي وابن ماجه باسناد جيد ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث ابي ذر او ابي الدرداء.

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
১. ইখলাস (كتاب الإخلاص)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩৬ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »