পরিচ্ছেদঃ
২৯৫। যে ব্যাক্তি কুল-হু আল্লাহু আহাদ সূরা দু’শত বার পাঠ করবে, তার দু’শত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়ে।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইবনু যুরায়েস "ফাযায়েলুল কুরআন" গ্রন্থে (৩/১১৩/১), খাতীব বাগদাদী (৬/১৮৭), ইবনু বিশরান (১২/৬২) ও বাইহাকী “আশ-শু’য়াব” গ্রন্থে (১/২/৩৫/১-২) হাসান ইবনু আবী জাফার আল-জাফারী সূত্রে সাবেত আল-বুনানী হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ নিতান্তই দুর্বল।
হাসান ইবনু জাফার সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ তাকে ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। বুখারী এবং ফাল্লাস তাকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেননি। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/২৩৯) বলেছেনঃ বাযযার সাবেত হতে আগলাব ইবনু তামীম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুখস্থ বিদ্যায় ক্রটির দিক দিয়ে তিনি হাসানের ন্যায়। ইবনু যুরায়েস ও বাইহাকী সাবেত হতে সালেহ্ আল-মিরর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সালেহ্ হচ্ছেন ইবনু বাশীর আয-যাহেদ। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ফাল্লাস বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। মোটকথা হাদীসটি তিনটি সূত্রেই অত্যন্ত দুর্বল। একটি দ্বারা অন্যটির দুর্বলতাকে দূর করার মত নয়। অর্থটিও আমার নিকট মুনকার, কারণ ফীলতের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।
من قرأ قل هو الله أحد مئتي مرة غفرت له ذنوب مئتي سنة
منكر
-
رواه ابن الضريس في " فضائل القرآن " (3 / 113 / 1) والخطيب (6 / 187) وابن بشران (ج 12 ق 62 وجه 1) والبيهقي في " الشعب " (1 / 2 / 35 / 1 - 2) من طريق الحسن بن أبي جعفر الجعفري حدثنا ثابت البناني عن أنس بن مالك مرفوعا
وهذا سند ضعيف جدا الحسن بن جعفر الجعفري قال الذهبي: ضعفه أحمد والنسائي، وقال البخاري والفلاس: منكر الحديث، ومن بلاياه هذا الحديث
قلت: إلا أنه لم يتفرد به فقال السيوطي في " اللآليء " (1 / 239) : أخرجه ابن الضريس في " فضائل القرآن " والبيهقي في " شعب الإيمان " من طريق الحسن بن أبي جعفر به، وأخرجه البزار من طريق الأغلب بن تميم عن ثابت عن أنس، وقال: لا نعلم رواه عن ثابت إلا الحسن بن أبي جعفر والأغلب وهما متقاربان في سوء الحفظ، وأخرجه ابن الضريس والبيهقي من طريق صالح المري عن ثابت عن أنس
قلت: وصالح هذا هو ابن بشير الزاهد، قال البخاري والفلاس أيضا: منكر الحديث
والخلاصة أن هذه الطرق الثلاث شديدة الضعف فلا ينجبر بها ضعف الحديث، على أن معناه مستنكر عندي جدا لما فيه من المبالغة، وإن كان فضل الله تعالى لا حد له والله أعلم
تنبيه: لم أر الحديث في " كشف الأستار "، ولا في " مجمع الزوائد "، والله أعلم
পরিচ্ছেদঃ
২৯৮। সুবহানআল্লাহ তোমরা কোন বস্তুকে অভ্যার্থনা জানাবে এবং কোন বস্তুকে তোমাদের সম্মুখবর্তী করা হবে? তিনি বাক্যটি তিনবার বললেন। অতঃপর উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! ওহী নাযিল হয়েছে নাকি দুশমন উপস্থিত হয়েছে? তিনি বললেনঃ না, কিন্তু আল্লাহ এ কেবলাবাসিদের সকলকে রমযান মাসের প্রথম রাতেই ক্ষমা করে দিবেন। (বর্ণনাকারী বললেনঃ) মজলিসের একধারে এক ব্যাক্তি তার মাথা নাড়াছিলেন এবং বলছিলেনঃ যথেষ্ট হয়েছে যথেষ্ট হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এ কথা শুনে সম্ভবত তোমার হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে গেছে? সে বললঃ আল্লাহর কসম তা না হে আল্লাহর রাসুল! তবে আমি মুনাফেকদের ব্যাপারে বলছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুনাফেক হচ্ছে কাফের আর কাফেরের জন্য তাতে কোন অংশ নেই।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/৯৭/১), আবু তাহের আম্বারী তার “আল-মাশীখা” গ্রন্থে (১৪৭/১-২) ও আরো অনেকে আমর ইবনু হামযা আল-কায়সী আবু উসায়েদ হতে ... বর্ণনা করেছেন।
তাবারানী বলেনঃ আনাস (রাঃ) হতে শুধুমাত্র এ সনদেই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আমর এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
সুয়ূতী "আল-লাআলীল মাসনু’য়াহ" গ্রন্থে (২/১০১) পূর্বের হাদীসটির শাহেদ হিসাবে এটিকে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর চুপ থেকেছেন। কারণ এ আমর ইবনু হামযাকে দারাকুতনীসহ অন্যরা দুর্বল বলেছেন। বুখারী ও উকায়লী তার সম্পর্কে বলেনঃ তার হাদীসের অনুসরণ করা যাবে না। অতঃপর উকায়লী তার দুটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, এটি সে দুটির একটি। অতঃপর বলেছেনঃ এ দুটির অনুসরণ করা যায় না।
অন্য এক বর্ণনাকারী খালাফ আবূর রাবী হচ্ছেন মাজহুল (অপরিচিত)। তিনি খালাফ ইবনু মিহরান নন। বুখারী ও ইবনু আবী হাতিম উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি (ইবনু আবী হাতিম) খালাফ ইবনু মিহরানকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। অতঃপর আবূর রাবী’র জীবনী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার সম্পর্কে ভাল মন্দ কিছুই বলেননি।
ইবনু খুযায়মা তার “সহীহাহ” গ্রন্থে এ হাদীসটিকে দুর্বল হিসাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/৬৩) উল্লেখ করেছেন। ইবনু খুযায়মা বলেনঃ আমি খালাফ আবূর রাবী’ এবং আমর ইবনু হামযাকে (ভাল না মন্দ এ হিসাবে) চিনি না।
মোটকথা এ দুই মাজহুল বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করার কারণে হাদীসটি আমার নিকট মুনকার।
سبحان الله ماذا تستقبلون، وماذا يستقبل بكم؟ قالها ثلاثا، فقال عمر:
يا رسول الله وحي نزل أو عدوحضر؟ قال: لا، ولكن الله يغفر فى أول ليلة من رمضان لكل أهل هذه القبلة، قال: وفي ناحية القوم رجل يهز رأسه يقول: بخ بخ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: كأنك ضاق صدرك مما سمعت؟ قال: لا والله يا رسول الله ولكن ذكرت المنافقين، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إن المنافق كافر، وليس لكافر في ذا شيء
منكر
-
رواه الطبراني في " الأوسط " (1 / 97 / 1 من زوائده) وأبو طاهر الأنباري في " مشيخته " (147 / 1 - 2) وابن فنجويه في " مجلس من الأمالي في فضل رمضان " (3 / 2 - 4 / 1) والواحدي في " الوسيط " (1 / 64 / 1) والدولابي في " الكنى " (1 / 107) عن عمرو بن حمزة القيسي أبي أسيد حدثنا أبو الربيع خلف عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم لما حضر شهر رمضان قال: فذكره وقال الطبراني: لا يروى عن أنس إلا بهذا الإسناد تفرد به عمرو
ومن هذا الوجه رواه البيهقي في " شعب الإيمان " كما في اللآليء المصنوعة
(2 / 101) للسيوطي، أورده شاهدا للحديث الذي قبله وسكت عليه! وليس بشيء، فإن عمرو بن حمزة هذا ضعفه الدارقطني وغيره، وقال البخاري والعقيلي
لا يتابع على حديثه، ثم ساق له العقيلي حديثين هذا أحدهما ثم قال: لا يتابع عليهما، وخلف أبو الربيع مجهول، وهو غير خلف بن مهران وقد فرق بينهما البخاري وكذا ابن أبي حاتم، فقد ترجم لابن مهران أولا، ووثقه، ثم ترجم لأبي الربيع ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، ثم رأيت ابن خزيمة قد أشار لتضعيف هذا الحديث، فقد ذكره المنذري في " الترغيب " (2 / 63) ثم قال: رواه ابن خزيمة في " صحيحه " والبيهقي، وقال ابن خزيمة: إن صح الخبر فإني لا أعرف خلفا أبا الربيع بعدالة ولا جرح ولا عمرو بن حمزة القيسي الذي دونه
قال المنذري: قد ذكرهما ابن أبي حاتم ولم يذكر فيهما جارحا
قلت: فكان ماذا؟ ! فإنه لم يذكر فيه توثيقا أيضا، فمثل هذا أقرب إلى أن يكون مجهولا عند ابن أبي حاتم من أن يكون ثقة عنده وإلا لما جاز له أن يسكت عنه ويؤيد هذا قوله في مقدمة الجزء الأول (ق 1 ص 38) : على أنا ذكرنا أسامي كثيرة مهملة من الجرح والتعديل كتبناها ليشتمل الكتاب على كل من روى عنه العلم رجاء وجود الجرح والتعديل فيهم، فنحن ملحقوها بهم من بعد إن شاء الله، فهذا نص منه على أنه لا يهمل الجرح والتعديل إلا لعدم علمه بذلك، فلا يجوز أن يتخذ سكوته عن الرجل توثيقا منه له كما يفعل ذلك بعض أفاضل عصرنا من المحدثين، وجملة القول: أن هذا الحديث عندي منكر لتفرد هذين المجهولين به
পরিচ্ছেদঃ
৩০৪। কোন যুবক কোন বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করলে, আল্লাহ তার জন্যও এমন এক ব্যাক্তি নির্ধারিত করে দিবেন যে তাঁকে তার বৃদ্ধ বয়সের সময় সম্মান করবে।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তিরমিযী (৩/১৫২), আবূ বকর আশ-শাফেঈ “রুবা’ঈয়াত” গ্রন্থে (১/১০৬/১-২) এবং তার থেকে বাইহাকী “আল-আদাব” গ্রন্থে (৫৭/৫৩) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া উকায়লী, আবু নু’য়াইম, আল-খাতীব, ইবনু আসাকির ও যিয়া আল-মাকদেসীসহ আরো অনেকে ইয়াযীদ ইবনু বায়ান আল-মুয়াল্লিম সূত্রে আবুর রিহাল হতে ... বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এটিকে শুধুমাত্র ইয়াযীদ ইবনু বায়ানের হাদীস হতেই জানি। উকায়লী বলেনঃ তার অনুকরণ করা যায় না। এটিকে তার মাধ্যম ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে জানা যায় না।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি দুর্বল। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ দারাকুতনী বলেছেনঃ এটি দুর্বল। বুখারী বলেছেনঃ এটিতে বিরূপ মন্তব্য আছে। ইবনু আদী বলেছেনঃ এটি মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইয়াযীদ ইবনু বায়ানের শাইখ আবু রিহাল তার মতই। আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন, তিনি মুনকারুল হাদীস। বুখারী বলেনঃ তার নিকট আজব আজব বস্তু রয়েছে। ইবনুন নাকুরও তাকে দুর্বল বলে ইঙ্গিত করেছেন।
ما أكرم شاب شيخا لسنه إلا قيض الله له من يكرمه عند سنه
منكر
-
رواه الترمذي (3 / 152) وأبو بكر الشافعي في " الرباعيات " (1 / 106 / 1 - 2) وعنه البيهقي في " الآداب " (57 / 53) والعقيلي (455) وأبو الحسن النعالي في " جزء من حديثه " (124 - 125) وابن بشران في " الأمالي " (18 /6 / 1، 22 / 60 / 1) والقطيعي في " جزء الألف دينار " (35 / 1) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (2 / 185) وزاهر الشحامي في " السباعيات " (7 / 12 /2) وأبو بكر بن النقور في " الفوائد " (1 / 149 / 1) وابن شاذان في " المشيخة الصغرى " (53 / 2) والخطيب في " الفقيه والمتفقه " (277 / 1) وعبد الله العثماني الديباجي في " الأمالي " (1 / 56 / 1) وابن عساكر في تاريخه (14 / 249 / 2) والضياء المقدسي في " المنتقى من مسموعاته بمرو" (33 / 1) كل هؤلاء أخرجوه عن يزيد بن بيان المعلم عن أبي الرحال عن أنس مرفوعا، وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث هذا الشيخ: يزيد ابن بيان
وقال العقيلي: لا يتابع عليه ولا يعرف إلا به
قلت: وهو ضعيف، قال الذهبي في " الميزان ": قال الدارقطني: ضعيف، وقال البخاري: فيه نظر، ثم ساق له هذا الحديث وقال: قال ابن عدي: هذا منكر
قلت: وشيخه أبو الرحال نحوه، قال أبو حاتم: ليس بقوي منكر الحديث، وقال البخاري: عنده عجائب، وقد أشار لضعفه ابن النقور فقال عقب الحديث: إن هذا الحديث من مفاريد أبي الرحال خالد بن محمد الأنصاري، ولا يرويه عنه غير يزيد ابن بيان، وفيهما نظر، ولا يعرف لأبي الرحال عن أنس غير هذا الحديث الواحد وهو مقل له خمسة أحاديث
পরিচ্ছেদঃ
৩৩৩। আল্লাহ তা’আলা আমার অর্ধেক উম্মাতকে ক্ষমা করার অথবা আমার শাফা’য়াত গ্রহণ করার মধ্য হতে একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আমার শাফা’য়াত করারকে পছন্দ করি। আমার আশা শাফা’য়াতটি আমার উম্মাতের জন্য ব্যাপক হবে। আমার পূর্বের নেকাকার বান্দা যদি আমার চেয়ে সেটির দিকে অগ্রণী না হতেন, তাহলে আমি তাতে আমার দাবী নিয়ে তাড়াতাড়ি করতাম। আল্লাহ তা’আলা যখন ইসহাককে যবেহের বিপদ থেকে মুক্ত করলেন, তাঁকে বলা হলঃ হে ইসহাক! চাও তোমাকে দেয়া হবে। তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার আত্মা তার কসম অবশ্যই আমি তাতে তাড়াতাড়ি করব, শয়তান তা ছিনিয়ে নেয়ার পূর্বেই। হে আল্লাহ! যে ব্যাক্তি তোমার সাথে কোন প্রকার শিরক না করে মারা যাবে, তুমি তাঁকে ক্ষমা করে দাও এবং তাঁকে জান্নাত দিয়ে দাও।
হাদীসটি মুনকার।
ইবনু আবী হাতিম বলেছেনঃ আমার পিতা আমাদেরকে হাদীসটি শুনিয়েছেন। এটির সনদে রয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম। অনুরূপভাবে “তাফসীরু ইবনে কাসীর” গ্রন্থেও এসেছে (৪/১৬) বর্ণিত হয়েছে, তিনি (ইবনু কাসীর) বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব ও মুনকার। আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আমার ভয় হচ্ছে যে, হাদীসটির মধ্যে কিছু বর্ধিত করা হয়েছে। সে বর্ধিত অংশটুকু হচ্ছেঃإن الله لما فرغ عن إسحاق ’আল্লাহ তা’আলা যখন ইসহাককে যবেহের বিপদ হতে মুক্ত করলেন...।’
আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ নিতান্তই দুর্বল; হাকিম তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি তার পিতা হতে জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হচ্ছেন আদম (আঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অসীলা ধরার হাদীসের বর্ণনাকারী। সে হাদীসটি জাল (নম্বর ২৫)।
এটি ইসরাইলী বর্ণনা হতে এসেছে। ভুল করে আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ মারফু করে ফেলেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির বর্ধিত অংশটুকুও ইসরাইলী বর্ণনা হতেই এসেছে। তার প্রমাণ এই যে, কা’আব আল-আহবার বর্ধিত অংশসহ আবু হুরাইরাহ (রাঃ)-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যেমনভাবে হাকিম (২/৫৫৭) তার সনদে কা’আব পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ এ সনদটি সহীহ, এতে কোন ধূলিকণা নেই। যাহাবী তার কথাকে সমর্থন করেছেন। অথাৎ এটি কা’আবের কথা। অতএব এটি ইসরাইলী বর্ণনা হওয়াই সঠিক।
ইসহাক যাবিহ হওয়ার হাদীসগুলো যে সূত্রে এসেছে সেগুলো সহীহ নয়।
إن الله تبارك وتعالى خيرني بين أن يغفر لنصف أمتي، وبين أن يجيب شفاعتي، فاخترت شفاعتي ورجوت أن تكون أعم لأمتي، ولولا الذى سبقني إليه العبد الصالح لتعجلت فيها دعوتي، إن الله تعالى لما فرج عن إسحاق كرب الذبح، قيل له: يا إسحاق سل تعط، فقال: أما والذي نفسي بيده لأتعجلنها قبل نزغات الشيطان
اللهم من مات لا يشرك بك شيئا فاغفر له وأدخله الجنة
منكر
-
قال ابن أبي حاتم: حدثنا أبي، حدثنا محمد بن الوزير الدمشقي، حدثنا الوليد ابن مسلم حدثنا عبد الرحمن بن زيد بن أسلم عن أبيه عن عطاء بن يسار عن أبي هريرة مرفوعا، كذا في " تفسير ابن كثير " (4 / 16) وقال: هذا حديث غريب منكر، وعبد الرحمن بن زيد بن أسلم ضعيف الحديث، وأخشى أن يكون في الحديث زيادة مدرجة وهي قوله: " إن الله لما فرج عن إسحاق ... " إلخ، والله أعلم
قلت: وما خشي ابن كثير بعيد، فإن الزيادة المذكورة لها صلة تامة بقوله قبلها: ولولا الذي ... فهي كالبيان له والله أعلم
وعبد الرحمن بن زيد ضعيف جدا، قال الحاكم: روى عن أبيه أحاديث موضوعة، لا يخفى على من تأملها من أهل الصنعة أن الحمل فيها عليه
قلت: وهو راوي حديث توسل آدم بالنبي صلى الله عليه وسلم وهو حديث موضوع كما سبق بيانه في الحديث رقم (25) . وذكرت هناك احتمال كونه من الإسرائيليات، أخطأ في روايته عبد الرحمن بن زيد فرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وأقول هنا: إن هذه الزيادة في الحديث هي من الإسرائيليات أيضا بدليل أن كعب الأحبار حدث بها أبا هريرة كما أخرجه الحاكم (2 / 557) بسنده إلى كعب ثم قال عقبه: هذا إسناد صحيح لا غبار عليه ووافقه الذهبي، وأصرح من هذه الرواية رواية عبد الرزاق قال: أخبرنا معمر عن الزهري أخبرنا القاسم قال: اجتمع أبوهريرة وكعب، فجعل أبوهريرة رضي الله عنه يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم، وجعل كعب يحدث عن الكتب، فقال أبوهريرة: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " أن لكل نبي دعوة مستجابة وإني قد خبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة "، فقال له كعب: أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: نعم، قال: أفلا أخبرك عن إبراهيم عليه السلام؟ إنه لما رأى ذبح ابنه إسحاق ... قلت: فذكر القصة وليس فيها هذه الزيادة، ولهذا قال الحافظ ابن كثير بعد أن ذكر بعض الآثار عن بعض الصحابة في أن الذبيح إسحاق: وهذه الأقوال - والله أعلم - كلها مأخوذة عن كعب الأحبار، فإنه لما أسلم في الدولة العمرية جعل يحدث عمر رضي الله عنه عن كتب قديمة، فربما استمع له عمر رضي الله عنه فترخص الناس في استماع ما عنده ونقلوا ما عنده منها وسميتها وليس لهذه الأمة والله أعلم حاجة إلى حرف واحد مما عنده
والحديث أخرجه الطبراني في " الأوسط " من هذا الوجه (2 / 138 / 2 / 7136) وهو دليل على أن الذبيح إسحاق عليه السلام، وبه قال بعضهم وهو باطل، والصواب أنه إسماعيل كما سبق بيانه في الحديث الذي قبله، ومثله ما يأتي
পরিচ্ছেদঃ
৩৩৪। লোকদের মধ্যে ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা সন্মানিত ব্যাক্তি। তিনি যাবীহুল্লাহ।
হাদীসটি মুনকার।
এ শব্দে তাবারানী তার “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (১০২৭৮) আবূ ওবাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হায়সামী "আল-মাজমা" গ্রন্থে বলেছেনঃ (৮/২০২) এটির সনদে বাকিয়াহ রয়েছেন, তিনি মুদাল্লিস এবং আবূ ওবাইদা তার পিতা হতে শুনেননি। কিন্তু বাকিয়ার মুতাবায়াত পাওয়া যায়। মুয়াবিয়া ইবনু হাফস এবং বাকিয়া উভয়ে শু’বা হতে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনুল মুজাফফার “গারায়েবু শু’বাহ” গ্রন্থে (১/১৩৮) বর্ণনা করেছেন। ইবনু কাসীর তার “আত-তাফসীর” গ্রন্থে (৪/১৭) বলেছেনঃ এটি ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে সহীহ (অর্থাৎ মওকুফ হিসাবে)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ “إن إسحاق ذبيح الله” এ অংশটুকু বাদ দিয়ে হাদীসটি মারফু’ হিসাবেও সহীহ কারণ এ বর্ধিত অংশটুকু মুনকার। এ অংশটুকু বাদ দিয়ে বুখারী এবং মুসলিম আবু হুরাইরার (রাঃ) হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন।
ইসহাকই ছিলেন যাবীহ এ মর্মে যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সে গুলোর সবই দুর্বল।
أكرم الناس يوسف بن يعقوب بن إسحاق ذبيح الله
منكر بهذا اللفظ
-
رواه الطبراني في " كبيره " (10278) من طريق أبي عبيدة عن أبيه عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه سئل: من أكرم الناس؟ قال
" يوسف بن يعقوب ... "، الحديث، قال الهيثمي في " مجمع الزوائد " (8 / 202) : وفيه بقية مدلس، وأبو عبيدة لم يسمع من أبيه
قلت: ولكن بقية قد توبع عليه فقد رواه ابن المظفر في " غرائب شعبة " (138 / 1) عن معاوية بن حفص وبقية معا عن شعبة عن أبي إسحاق عن أبي عبيدة عن ابن مسعود به، ورواه شعبة عن أبي إسحاق عن أبي الأحوص عن ابن مسعود موقوفا عليه، وهو الصواب، أخرجه الطبراني في " الكبير " (3 / 18 / 1) ، قال الحافظ ابن
كثير بعد أن ساقه في " تفسيره " (4 / 17) : وهذا صحيح عن ابن مسعود
قلت: والحديث صحيح مرفوعا دون قوله: " إن إسحاق ذبيح الله "، فإن هذه الزيادة منكرة، فقد أخرج الحديث البخاري (6 / 323 - 324) ومسلم (7 / 103) من حديث أبي هريرة: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أكرم الناس؟ قال: " أتقاهم لله، قالوا: ليس عن هذا نسألك، قال: " فأكرم الناس يوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله بن خليل الله ... "، الحديث ليس فيه " ذبيح الله " فدل على نكارتها
পরিচ্ছেদঃ
৩৩৮। আল্লাহ তা’আলা সাত আসমানকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর তার মধ্য হতে সর্বোচ্চটিকে পছন্দ করলেন। সেটিতে বসবাস করা শুরু করেলেন এবং তার সকল আসমানকে তার সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে চান তাঁদের জন্য বাসস্থান বানালেন। সাত যমীনকে সৃষ্টি করলেন। তার মধ্য থেকে সর্বোচ্চটিকে তার সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে চান তাঁদের জন্য বাসস্থান বানালেন। অতঃপর সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টির মধ্য হতে আদম সন্তানদের তিনি চয়ন করলেন। বানু আদমদের থেকে আরবদেরকে চয়ন করলেন। আরবদের থেকে মুযারা গোত্রকে বেছে নিলেন। মুযারা হতে কুরাইশদেরকে বেছে নিলেন। কুরাইশদের থেকে হাশেমীদেরকে বেছে নিলেন। অতঃপর আমাকে হাশেমীদের থেকে বেছে নিলেন। আমি উত্তমদের থেকে উত্তমদের শেষ সীমায়। অতএব যে ব্যাক্তি আরবদের ভালবাসবে, সে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাঁদেরকে ভালবেসেছে এবং যে আরবদের অপছন্দ করবে সে আমাকে অপছন্দ করার কারণেই তাঁদেরকে অপছন্দ করেছে।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তাবারানী (৩/২১০/১), উকায়লী"“আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (৪৫৮), ইবনু আদী (৭৪/২/৩০১/২), আবূ নু’য়াইম "দালায়েলুল নুবুওয়া" গ্রন্থে (পৃঃ ১২), অনুরূপভাবে হাকিম (৪/৭৩-৭৪), ইবনু কুদামা আল-মাকদেসী “আল-উলু” গ্রন্থে (১৬৫-১৬৬) এবং ইরাকী “মুহাজ্জাতুল কুরব ইলা মুহাব্বাতীল আরাব” গ্রন্থে (২/২০১) দু’টি সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু যাকওয়ান হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ নিতান্তই দুর্বল। এ মুহাম্মাদ ইবনু যাকওয়ান সম্পর্কে নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। তাকে দারাকুতনী ও অন্যরা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। উকায়লী বলেছেনঃ তিনি অনুসরণযোগ্য নন। হাকিম অন্য একটি সূত্রে আমর ইবনু দীনার হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদে আবু সুফিয়ান যিয়াদ ইবনু সুহায়েল আল-হারেসী নামক এক বর্ণনাকারী আছেন তার জীবনী পাচ্ছি না। হাদীসটি ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/৩৬৭-৩৬৮) প্রথম সূত্রটিতে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ হাদীসটি মুনকার। যাহাবী ইবনু যাকুয়ানের জীবনীতে “আল-মীযান” গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন। তবে হাদীসের শেষাংশ যেটুকুতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফযীলত এবং আরবদের ফযীলত সম্পর্কে বলা হয়েছে সে অংশটুকু সহীহ্ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।
إن الله عز وجل خلق السموات سبعا، فاختار العليا منها فسكنها، وأسكن سائر سمواته من شاء من خلقه، وخلق الأرضين سبعا فاختار العليا منها فأسكنها من شاء من خلقه، ثم خلق الخلق فاختار من الخلق بني آدم واختار من بني آدم العرب، واختار من العرب مضر، واختار من مضر قريشا، واختار من قريش بني هاشم
واختارني من بني هاشم، فأنا من خيار إلى خيار، فمن أحب العرب فبحبي أحبهم، ومن أبغض العرب فببغضي أبغضهم
منكر
-
رواه الطبراني (3 / 210 / 1) والعقيلي في " الضعفاء " (458) وابن عدي (74 / 2 / 301 / 2) وأبو نعيم في " دلائل النبوة " (ص 12) وكذا الحاكم (4 / 73 - 74) وابن قدامة المقدسي في " العلو" (165 - 166) والعراقي في " محجة القرب إلى محبة العرب " (2 / 201) من طريقين عن محمد بن ذكوان عن عمرو
ابن دينار عن ابن عمر مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا: محمد بن ذكوان، قال النسائي: ليس بثقة وضعفه الدارقطني وغيره، وقد قال العقيلي: إنه لا يتابع عليه، لكن أخرجه الحاكم من طريق أخرى عن عمرو بن دينار عن سالم بن عبد الله عن ابن عمر مرفوعا مختصرا
قلت: وفي سنده أبو سفيان زياد بن سهيل الحارثي ولم أجد له ترجمة
والحديث أورده ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 367 - 368) من الطريق الأول وقال عن أبيه: إنه حديث منكر، وأقره الذهبي في ترجمة ابن ذكوان من الميزان
ومما ينبغي أن يعلم أن القطعة الأخيرة من الحديث المتضمنة فضل العرب وفضل الرسول صلى الله عليه وسلم ثابتة في أحاديث صحيحة قد ذكرنا بعضها عند الكلام على الحديث الموضوع: " إذا ذلت العرب ذل الإسلام " وتكلمنا هناك عن مسألة أفضلية العرب على العجم وحقيقتها بشيء من التفصيل فراجع الحديث (163) والذي بعده
পরিচ্ছেদঃ
৩৪৭। এ উম্মাত শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তিনটি বস্তু প্রকাশ না পাবেঃ যতদিন তাদের মধ্য হতে জ্ঞানকে উঠিয়ে না নেয়া হবে, তাদের মধ্যে কুসন্তানের আধিক্য না হবে এবং যতদিন সাক্কারুনরা প্রকাশিত না হবে। তারা বললঃ সাক্কারুন কারা হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেনঃ শেষ যামানার মানুষ, যখন তারা একে অপরে মিলিত হবে তখন তাদের অভিনন্দনের ভাষা হবে অভিশাপ।
হাদীসটি মুনকার।
এটি হাকিম (৪/৪৪৪) এবং ইমাম আহমাদ (৩/৪৩৯) যাবান ইবনু ফায়েদ হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সাহাল হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হাকিম বলেছেনঃ শাইখায়নের শর্তানুযায়ী এটি সহীহ। যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ হাদীসটি মুনকার, শাইখাইন যাবান হতে বর্ণনা করেননি।
ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি নেককার এবং আবেদ হওয়া সত্ত্বেও হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন।
لا تزال الأمة على شريعة ما لم تظهر فيهم ثلاث: ما لم يقبض منهم العلم، ويكثر فيهم ولد الخبث، ويظهر السقارون، قالوا: وما السقارون يا رسول الله؟ قال: بشر يكونون فى آخر الزمان تكون تحيتهم بينهم إذا تلاقوا اللعن
منكر
-
أخرجه الحاكم (4 / 444) وأحمد (3 / 439) عن زبان بن فائد عن سهل بن معاذ بن أنس عن أبيه مرفوعا، وقال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين ورده الذهبي بقوله: قلت: منكر، وزبان لم يخرجا له
قلت: وزبان قال الحافظ في " التقريب ": ضعيف الحديث مع صلاحه وعبادته
পরিচ্ছেদঃ
৩৫৪। আল্লাহ তা’আলা আদমকে জাবীয়া নামক স্থানের মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে জান্নাতের পানি দিয়ে মুদিত করেছেন।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (৮/১) এবং তার থেকে হাফিয ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে (২/১১৯) ও যিয়া "আল-মাজমূ" গ্রন্থে (২/৬০) হিশাম ইবনু আম্মার হতে, তিনি ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি ইসমাইল ইবনু রাফে’ হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ নিতান্তই দুর্বল।
এ ইসমাঈল ইবনু রাফে সম্পর্কে দারাকুতনী ও অন্যরা বলেছেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইবনু আদী বলেছেনঃ তার সকল হাদীসে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। অতঃপর তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তার সূত্র হতে ইবনুল জাওয়ী “আল-মাওযু"আত” গ্রন্থে (১/১৯০) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। ইসমাঈলকে ইয়াহইয়া ও আহমাদ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন আর ওয়ালীদ তাদলীস করতেন।
সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এ ইসমাঈলের হাদীস ইমাম তিরমিয়ী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বুখারীর উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য, মুকারেবুল হাদীস।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সমালোচনা সঠিক নয়। কারণ কোন ব্যক্তি নিজে নির্ভরযোগ্য হয়েও তার মুখস্থ বিদ্যায় তিনি খারাপ হতে পারেন। কখনও কখনও তার হেফয শক্তি নিতান্তই খারাপ হতে পারে। যার কারণে তার হাদীসে বেশী ভুলও সংঘটিত হয়। ফলে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না, এ ইসমাঈল এ পর্যায় ভূক্তই। তার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি ব্যক্তি হিসাবে সৎ ছিলেন। কিন্তু তিনি হাদীসগুলোকে উলট পালট করে ফেলতেন। ফলে তার অধিকাংশ হাদীস মুনকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, এজন্য ভাবা হত তিনি এটা ইচ্ছাকৃতই করতেন। এজন্যই তাকে একদল কিছু না বলে ছেড়ে দিয়েছেন আর অন্যরা তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হতে পারে বুখারীর নিকট তার বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল। নির্দোষীতার আগে ব্যাখ্যাকৃত দোষারোপ অগ্রাধিকার পাবে, এর ভিত্তিতে তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নন। এ কারণেই ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/২৯৭) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ এ হাদীসটি মুনকার।
خلق الله تعالى آدم من طين الجابية، وعجنه بماء الجنة
منكر
-
أخرجه ابن عدي في " الكامل " (8 / 1) وعنه الحافظ ابن عساكر في " تاريخ دمشق " (2 / 119) وكذا الضياء في " المجموع " (60 / 2) عن هشام بن عمار: أخبرنا الوليد بن مسلم عن إسماعيل بن رافع عن المقبري عن أبي هريرة مرفوعا
وهذا سند ضعيف جدا، إسماعيل بن رافع قال الدارقطني وغيره: متروك الحديث وقال ابن عدي: أحاديثه كلها مما فيه نظر، ثم ساق له هذا الحديث، ومن طريقه أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 190) ، وقال: لا يصح، إسماعيل ضعفه يحيى وأحمد، والوليد يدلس
وتعقبه السيوطي في " اللآليء " بقوله: قلت: إسماعيل روى له الترمذي، ونقل عن البخاري أنه قال: هو ثقة مقارب الحديث
قلت: وهذا تعقب لا طائل تحته، لأن الرجل قد يكون في نفسه ثقة، ولكنه سيء الحفظ، وقد يسوء حفظه جدا حتى يكثر الخطأ في حديثه فيسقط الاحتجاج به، وإسماعيل من هذا القبيل فقد قال فيه ابن حبان: كان رجلا صالحا إلا أنه كان يقلب الأخبار حتى صار الغالب على حديثه المناكير التي يسبق إلى القلب أنه كان المتعمد لها
ولهذا تركه جماعة وضعفه آخرون، والبخاري كأنه خفي عليه أمره، والجرح المفسر مقدم على التعديل، كما هو معلوم، ولهذا قال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 297) عن أبيه: هذا حديث منكر
পরিচ্ছেদঃ
৩৬১। যদি (রক্তের সম্পর্কের) আত্নীয়ের জন্য হেবা করা হয়, তাহলে তা ফিরিয়ে নেয়া যায় না।
হাদীসটি মুনকার।
এটি দারাকুতনী (পৃঃ ৩০৭), হাকিম (২/৫২) ও বাইহাকী (৬/১৮১) হাসান সূত্রে সামুরা ইবনু জুনদুব হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হাকিম বলেছেনঃ বুখারীর শর্তানুযায়ী এটি সহীহ।
তার ছাত্র বাইহাকী তার এ কথার বিরোধিতা করে বলেছেনঃ এটির সনদ শক্তিশালী নয়। এটিই সঠিক, কারণ সামুরা হতে হাসান কর্তৃক শ্রবণ সাব্যস্ত হয়েছে কিনা তাতে মতভেদ রয়েছে। তারপরও তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী, কীভাবে এটি সহীহ হয়?
যায়লাঈ "নাসবুর রায়া" গ্রন্থে (৪/১১৭) আল্লামা ইবনু আবদিল হাদী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ এ হাদীসটির বর্ণনাকারী সকলেই নির্ভরশীল, কিন্তু হাদীসটি মুনকার। হাসান সূত্রে সামুরা হতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা মুনকার হচ্ছে এ হাদীসটি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি সহীহ হাদীস বিরোধীঃ “একমাত্র পিতা কর্তৃক পুত্রকে হিবাকৃত মাল ফিরিয়ে নেয়া ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে হিবাকৃত মাল ফিরিয়ে নেয়া হালাল নয়, কারণ যে হিবাকৃত বস্তু ফিরিয়ে নেয়, সে হচ্ছে ঐ কুকুরের ন্যায় যে খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে বমি করে নিজের বমি নিজেই খায়।” হাদীসটি ইমাম আহমাদ (নং ২১১৯) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। “সুনান” গ্রন্থের লেখকগণও বর্ণনা করেছেন। অতঃপর এটিকে সহীহ বলেছেন। তিরমিয়ী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম ইবনু উমার এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
“ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থের ১৬২২ নাম্বারে এটির তাখরীজ করা হয়েছে।
إذا كانت الهبة لذي رحم لم يرجع فيها
منكر
-
أخرجه الدارقطني (ص 307) والحاكم (2 / 52) والبيهقي (6 / 181) من طريق الحسن عن سمرة بن جندب مرفوعا
وقال الحاكم: صحيح على شرط البخاري، وخالفه تلميذه البيهقي فقال: ليس إسناده بالقوي
وهذا هو الصواب للخلاف المعروف في سماع الحسن وهو البصري من سمرة، ثم هو مدلس وقد عنعنه، فأنى له الصحة؟ وقد نقل الزيلعي في " نصب الراية " (4 / 117) عن صاحب " التنقيح " وهو العلامة ابن عبد الهادي أنه قال: ورواة هذا الحديث كلهم ثقات، ولكنه حديث منكر، وهو من أنكر ما روى عن الحسن عن سمرة
قلت: وهو مخالف للحديث الصحيح: " لا يحل للرجل أن يعطي العطية فيرجع فيها إلا الوالد فيما يعطي ولده، ومثل الذي يعطي العطية فيرجع فيها كمثل الكلب أكل حتى إذا شبع قاء ثم رجع في قيئه " أخرجه أحمد (رقم 2119) بسند صحيح، وأصحاب " السنن " وصححه الترمذي وابن حبان والحاكم من حديث ابن عمر وابن عباس مرفوعا. وهو مخرج في " الإرواء " تحت الحديث رقم (1622)
تنبيه: عزا صديق خان في " الروضة الندية " (2 / 168) هذا الحديث لرواية الدارقطني أيضا من حديث ابن عباس، وهو وهم، فإن حديث ابن عباس عنده حديث آخر غير هذا، وهو (الأتي)
পরিচ্ছেদঃ
৩৬৪। যে ব্যক্তি আমার মসজিদে চল্লিশ (ওয়াক্ত) সালাত আদায় করল এমনভাবে যে, তার নিকট হতে এক (ওয়াক্ত) সালাতও ছুটল না, তার জন্য জাহান্নাম হতে মুক্তি ও শাস্তি হতে নাজাত লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সে মুনাফিকী হতে মুক্ত।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইমাম আহমাদ (৩/১৫৫) এবং তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (২/৩২/২/৫৫৭৬) আব্দুর রহমান ইবনু আবির রিজাল সূত্রে নুবাইত ইবনু উমার হতে ... বর্ণনা করেছেন।
তাবারানী বলেনঃ আনাস (রাঃ) হতে শুধুমাত্র নুবাইত বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবির রেজালও এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। নুবাইতকে শুধুমাত্র এ হাদীসেই চেনা যায়। তাকে ইবনু হিব্বান “আস-সিকাত” গ্রন্থে (৫/৪৮৩) উল্লেখ করেছেন। কারণ মাজহুল বর্ণনাকারীকে তার থিওরীতে নির্ভরশীল হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে।
এ কারণেই হায়সামী "আল-মাজমা" গ্রন্থে (৪/৮) বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ ও তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে এটিকে বর্ণনা করেছেন। এটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরশীল।
এছাড়া “আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/১৩৬) মুনযেরী বলেনঃ এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনাকারীগণ সহীহ্ বর্ণনাকারী।
এটি ধারণা মাত্র, কারণ নুবাইত সহীহ্ বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং ছয়টি হাদীস গ্রন্থের কোন লেখক তার থেকে বর্ণনা করেননি।
এটি দুর্বল হওয়ার কারণ এটিও যে, হাদীসটি দুটি সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। যার একটি অন্যটিকে শক্তি যোগাচ্ছে। কিন্তু নিম্নের ভাষায় মারফু এবং মওকুফ হিসাবে।
“যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন প্রথম তাকবীর সহকারে জামা’আতের সাথে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দুটি মুক্তি লিখা হয়। জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি এবং মুনাফেকী হতে মুক্তি”। এ হাদীসটি তিরমিয়ী (১/৭) বর্ণনা করেছেন।
ইবনু মাজাহ্ (১/২৬৬) একটি শাহেদ উল্লেখ করেছেন, যার সনদটি দুর্বল এবং মুনকাতি ।
এ বাক্যের হাদীসটির সূত্রগুলো সহীহার মধ্যে (২৬৫২) বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা প্রমাণ করে যে, আলোচ্য হাদীসটি দুর্বল এবং মুনকার।
من صلى فى مسجدي أربعين صلاة لا يفوته صلاة كتبت له براءة من النار، ونجاة من العذاب، وبرئ من النفاق
منكر
-
أخرجه أحمد (3 / 155) والطبراني في " المعجم الأوسط " (2 / 32 / 2 / 5576) من طريق عبد الرحمن بن أبي الرجال عن نبيط بن عمر عن أنس بن مالك مرفوعا
وقال الطبراني: لم يروه عن أنس إلا نبيط تفرد به ابن أبي الرجال
قلت: وهذا سند ضعيف، نبيط هذا لا يعرف في هذا الحديث، وقد ذكره ابن حبان في " الثقات " (5 / 483) على قاعدته في توثيق المجهولين، وهو عمدة الهيثمي في قوله في " المجمع " (4 / 8)
رواه أحمد والطبراني في " الأوسط " ورجاله ثقات
وأما قول المنذري في " الترغيب " (2 / 136)
رواه أحمد ورواته رواة الصحيح، والطبراني في " الأوسط
فوهم واضح لأن نبيطا هذا ليس من رواة الصحيح، بل ولا روى له أحد من بقية الستة! ومما يضعف هذا الحديث أنه ورد من طريقين يقوى أحدهما الآخر عن أنس مرفوعا وموقوفا بلفظ
" من صلى لله أربعين يوما في جماعة يدرك التكبير الأولى كتبت له براءتان، براءة من النار، وبراءة من النفاق
أخرجه الترمذي (1 / 7 - طبع أحمد شاكر) ثم وجدت له طريقا ثالثا عنه مرفوعا أخرجه بحشل في " تاريخ واسط " (ص 36) وله شاهد من حديث عمر بن الخطاب مرفوعا
أخرجه ابن ماجه (1 / 266) بسند ضعيف ومنقطع، ثم استوعبت طرقه وبينت ما لها وما عليها في الصحيحة برقم (2 / 652) وهذا اللفظ يغاير لفظ حديث الترجمة كل المغايرة، وهو أقوى منه فتأكد ضعفه ونكارته فمن قواه من المعاصرين فقد جانبه الصواب ولربما الإنصاف أيضا
পরিচ্ছেদঃ
৩৬৬। জাহান্নাম দুনিয়ার দ্বারা পরিবেষ্টিত আর জান্নাত তার (জাহান্নামের) পিছনে। সে কারণে পুলসিরাত জাহান্নামের উপর জান্নাতে যাওয়ার রাস্তা স্বরূপ হয়ে গেছে।
হাদীসটি নিতান্তই মুনকার।
এটি ইবনু মিখলাদ আত্তার “আল-মুনতাকা মিন আহাদীস” গ্রন্থে (২/৮৪/২), আবু নোয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (৩/৯২) এবং তার সূত্র হতে দাইলামী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/৭৯) মুহাম্মাদ ইবনু হামযা ইবনে যিয়াদ আত-তূসী হতে, তিনি তার পিতা হামযা হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আত্তারের সূত্র হতে আল-খাতীব (২/২৯১) এবং তার থেকে যাহাবী মুহাম্মাদের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর যাহাবী বলেছেনঃ হাদীসটি নিতান্তই মুনকার। মুহাম্মাদ দুর্বল আর হামযা ইমাম আহমাদের নিকট মাতরূক। ইবনু মাঈন বলেনঃ তার সাথে কোন সমস্যা নেই। মাহনা বলেছেনঃ আমি ইমাম আহমাদকে হামযা আত-তূসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ এ খাবীস হতে লিখা যাবে না।
যাহাবী মুহাম্মাদের জীবনীতে বলেন, ইবনু মান্দা বলেছেনঃ তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।
جهنم تحيط بالدنيا، والجنة من ورائها، فلذلك صار الصراط على جهنم طريقا إلى الجنة
منكر جدا
-
أخرجه ابن مخلد العطار في " المنتقى من أحاديثه " (2 / 84 / 2) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (2 / 93) ومن طريقه الديلمي في مسنده (2 / 79) عن محمد بن حمزة بن زياد الطوسي، حدثنا أبي قال: حدثنا قيس بن الربيع عن عبيد المكتب، عن مجاهد عن ابن عمر مرفوعا
ومن طريق العطار أخرجه الخطيب (2 / 291) وعنه الذهبي في ترجمة محمد بن حمزة ابن زياد ثم قال
" هذا منكر جدا، محمد واه، وحمزة تركه أحمد، وقال ابن معين: ليس به بأس
قال مهنا: سألت أحمد عن حمزة الطوسي؟ فقال: لا يكتب عن الخبيث، وقال في ترجمة محمد بن حمزة: قال ابن منده: حدث بمناكير: قلت: روى عن أبيه، وأبوه فغير عمدة
والحديث عزاه السيوطي لـ " مسند الفردوس " أيضا، ورواه أبو الحسن أحمد بن محمد بن الصلت في حديثه عن ابن عبد العزيز الهاشمي (76 / 1) عن محمد الطوسي به
تنبيه: زاد المناوي في إعلال الحديث فقال: وفيه محمد مخلد قال الذهبي
قال ابن عدي: حدث بالأباطيل، قلت: وهذا هو الرعيني الحمصي وهو غير العطار صاحب هذا الحديث وهو ثقة مترجم في تاريخ بغداد (3 / 310) فوجب التنبيه
পরিচ্ছেদঃ
৪২৬। রুকুনটি (হাযরে আসওয়াদটি) যদি জাহেলিয়াতের অপবিত্রতা, তার নাপাকী, অত্যাচারী ও গুনাহগার হতে হেফাযতে থাকত, তাহলে অবশ্যই তার দ্বারা প্রত্যেক রোগ হতে আরোগ্য পাওয়া যেত এবং আজকে তাকে পেতাম আল্লাহ তা’আলা যেদিন তাকে সৃষ্টি করেছেন সেই আকৃতিতে। আল্লাহ তা’আলা তাকে কাল রং দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। যাতে করে দুনিয়াবাসী জান্নাতের অলংকারের দিকে দৃষ্টি না দেয় এবং তার দিকে ধাবিত না হয়। সেটি হচ্ছে জান্নাতের ইয়াকুতের সাদা রঙের ইয়াকূত। আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে যখন দুনিয়াতে নামিয়ে দেন তখন কাবাকে সৃষ্টির পূর্বে কা’বার স্থলে পাথরটিকে রেখে দেন। তখন যমীন পবিত্র ছিল, তাতে কোন গুনাহ করা হত না। তাতে এমন কোন অধিবাসী ছিল না, যারা তাকে অপবিত্র করবে। তার জন্য এক কাতার (দল) ফেরেশতা হারামের চার পার্শ্বে যমীনের অধিবাসীদের থেকে পাহারা দেয়ার জন্যে রেখে দেয়া হয়েছিল। সে সময় যমীনের অধিবাসী ছিল জিন সম্প্রদায়। তাদের জন্য বৈধ ছিল না যে, তারা তার দিকে দৃষ্টি দিবে। কারণ সেটি ছিল জান্নাতেরই অংশ। যে ব্যক্তি জান্নাতের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে, সেই প্রবেশ করেছে। একারণে যার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে এরূপ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য তার দিকে দৃষ্টি দেয়া বৈধ ছিল না। ফেরেশতাগণ তার (হাযরে আসওয়াদ) থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতেন এমতাবস্থায় যে, তার হারামের চারি দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা তাকে প্রতিটি দিক থেকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। এ জন্যই হারাম নামকরণ করা হয়েছে। কারণ তারা তাদেরকে তার (হাযরে আসওয়াদ) এবং নিজেদের মাঝে প্রাচীর হিসাবে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১০৭/১) আউফ ইবনু গায়লান ইবনে মুনাব্বেহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সাফওয়ান হতে, তিনি ইদরীস ইবনু বিনতে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বেহের নিচের বর্ণনাকারীগণ মাজহুল হওয়ার কারণে। তাদেরকে কে উল্লেখ করেছেন আমি পাচ্ছি না। তাছাড়া হাদীসের ভাষায় সুস্পষ্ট মুনকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উকায়লী “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (২/২৬৬) হাদীসটি গাউস ইবনু গায়লান সূত্রে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সাফওয়ানের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হিশাম ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি (উকায়লী) বলেনঃ তিনি (আব্দুল্লাহ) দুর্বল ছিলেন, হাদীস হেফয করতেন না। এ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনাকারী আউফ নয় বরং গাউস। এটিই সঠিক, যা “মুজামুল কাবীর”-এর ছাপানো গ্রন্থে এসেছে। যদিও হাতের লিখায় আউফ রয়েছে। তাকে ইবনু হিব্বান “আত-সিকাত” গ্রন্থে (৭/৩১৩, ৯/২) উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাঈন বলেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আর ইদরীসকে ইবনু আদী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই হচ্ছেন এ হাদীসটির সমস্যা।
لولا ما طبع الركن من أنجاس الجاهلية وأرجاسها وأيدى الظلمة والأثمة، لاستشفي به من كل عاهة، ولألفي اليوم كهيئته يوم خلقه الله، وإنما غيره الله بالسواد لأن لا ينظر أهل الدنيا إلى زينة الجنة، وليصيرن إليها، وإنها لياقوتة بيضاء من ياقوت الجنة وضعه الله حين أنزل آدم فى موضع الكعبة قبل أن تكون الكعبة، والأرض يومئذ طاهرة لم يعمل فيها شيء من المعاصي، وليس لها أهل ينجسونها، فوضع له صف من الملائكة على أطراف الحرم يحرسونه من سكان الأرض، وسكانها يومئذ الجن، لا ينبغي لهم أن ينظروا إليه لأنه شيء من الجنة، ومن نظر إلى الجنة دخلها، فليس ينبغي أن ينظر إليها إلا من قد وجبت له الجنة، فالملائكة يذودونهم عنه وهم وقوف على أطراف الحرم يحدقون به من كل جانب، ولذلك سمي الحرم، لأنهم يحولون فيما بينهم وبينه
منكر
-
الطبراني في " الكبير " (3 / 107 / 1) عن عوف بن غيلان بن منبه الصنعاني، أخبرنا عبد الله بن صفوان، عن إدريس بن بنت وهب بن منبه، حدثني وهب بن منبه، عن طاووس، عن ابن عباس مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف لجهالة من دون وهب بن منبه، فإني لم أجد من ذكرهم، والمتن ظاهر النكارة، والله أعلم، وفي " المجمع " (3 / 243)
رواه الطبراني في " الكبير " وفيه من لم أعرفه ولا له ذكر
ثم وجدت الحديث قد أخرجه العقيلي في " الضعفاء " (2 / 266) من طريق غوث بن غيلان بن منبه الصنعاني به مختصرا دون قوله: (ولألفي يوم القيامة ... ) إلخ
أورده في ترجمة عبد الله بن صفوان، وروي عن هشام بن يوسف أنه قال: كان ضعيفا، لا يحفظ الحديث
وتبين منه أن الراوي عنه إنما هو (غوث) ، وليس: (عوف) كما كنت نقلته عن مخطوطة " الكبير " وعلى الصواب وقع في المطبوع منه (11 / 55 / 11028) ، وهو مترجم في " الجرح " (3 / 57 / 58) ، و" ثقات ابن حبان " (7 / 313 و9 / 2) ، قال ابن معين: لم يكن به بأس
وإدريس بن بنت وهب اسم أبيه سنان اليماني، ضعفه ابن عدي، وقال الدارقطني: متروك
قلت: فهو آفة هذا الحديث. والله أعلم
পরিচ্ছেদঃ
৪৫৮। যিম্মীর দিয়াত হচ্ছে মুসলিম ব্যক্তির দিয়াত।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/৪৫-৪৬/৭৮০), দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃ. ৩৪৩, ৩৪৯) এবং বাইহাকী (৮/১০২) আবু কুরয আল কুরাশী সূত্রে নাফে হতে ... বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এ ভাষায়ঃ হাদীসটি নাফে’ হতে আবু কুরয ছাড়া অন্য কেউ মারফু হিসাবে বর্ণনা করেননি। তিনি মাতরূক। তার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল মালেক ফেহরী। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তার জীবনীর মধ্যে বলেছেনঃ তার এ হাদীসটি সর্বাপেক্ষা বেশী মুনকার। অতঃপর দারাকুতনী হাদীসটি উসামা ইবনু যায়েদ হতে বর্ণনা করেছেন। তার সমস্যা হিসাবে বলেছেনঃ তাতে উসমান ইবনু আবদির রহমান ওক্কাসী রয়েছেন; তিনি মাতরূকুল হাদীস।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি মিথ্যার দোষে দোষী। অতঃপর হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বাইহাকী বর্ণনা করেছেন এবং তার সমস্যা হিসাবে বলেছেনঃ তাতে হাসান ইবনু আম্মারা রয়েছেন; তিনি মাতরূক। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। তিনি আরো একটি সূত্র হতে বর্ণনা করেছেন। যার মধ্যে আবু সাঈদ বাক্কাল রয়েছেন। বাইহাকী বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। যায়লাঈ (৪/৩৩৬) বলেনঃ তার মধ্যে লাইয়েনুন (দুর্বলতা) রয়েছে।
হাদীসটি রাফেয়ী তার “হাদীস” গ্রন্থে (২/১৯) আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এ সনদে বারাকা ইবনু মুহাম্মাদ আনসারী রয়েছেন, তিনি হালাবী। তার সম্পর্কে দারাকুতনী বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।
অতঃপর বাইহাকী যুহরীর হাদীস হতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ মুরসাল হওয়ার কারণে শাফেয়ী হাদীসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ যুহরীর মুরসাল মন্দ।
ইমাম মুহাম্মাদ “কিতাবুল আসার” গ্রন্থে (পৃ. ১০৪) বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমাদেরকে আবু হানীফা (রহঃ) খবরটি হায়সাম হতে মারফূ হিসাবে শুনিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মু’যাল। কারণ এ হায়সাম হচ্ছেন ইবনু হাবীব সায়রাফী কুফী। তিনি তাবে তাবেঈ। তিনি ইকরিমা এবং আসেম ইবনু যামুরা হতে বর্ণনা করেছেন।
আবু হানীফা (রহঃ) এর হাদীসকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন, যেমনটি তার বিবরণ গেছে ৩৯৭ নং হাদীসে।
তাকে হেফযের দিক দিয়ে বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু আদী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
তার সম্পর্কে ইমামগণের সেই সব ভাষ্যগুলো উল্লেখ করছি যেগুলো সহীহ বর্ণনায় তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। যাতে করে পাঠকবৃন্দের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং কেউ এরূপ ধারণা ও দাবী না করে যে, আমরা ইজতিহাদ করে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলছি। যা কিছু উল্লেখ করা হচ্ছে তা শুধুমাত্র জ্ঞানীজন ও বিশেষজ্ঞদের অনুসরণার্থেই করা হচ্ছে।
১। ইমাম বুখারী “তারীখুল কাবীর” গ্রন্থে (৪/২/৮১০) বলেনঃ سكتوا عنه সাকাতু আনহু।
[(হাফিয ইবনু কাসীর “মুখতাসারু উলুমিল হাদীস” গ্রছে (পৃ. ১১৮) বলেনঃ ইমাম বুখারী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেনঃ সাকাতু আনহু অথবা বলেনঃ ফীহে নাযরুন (তার মধ্যে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে)। তখন জানতে হবে যে, তার স্তরটি তার নিকট অত্যন্ত নীচু এবং নিম্ন মানের।
হাফিষ ইরাকী বলেনঃ এরূপ বাক্য ইমাম বুখারী সেই ব্যক্তি সম্পর্কেই বলেছেন, যার হাদীসকে মুহাদ্দিসগণ পরিত্যাগ করেছেন তথা গ্রহণ করেননি। দেখুনঃ “আর-রাফউ ওয়াত তাকমীল” (পৃ: ১৮২-১৮৩)। “মাসায়েলুল ইমামে আহমাদ” গ্রছে (পৃঃ ২১৭) মারওয়াযী বলেনঃ আমি বললাম, কখন কোন ব্যক্তির হাদীসকে পরিত্যাগ করা হয়? তিনি উত্তরে বললেনঃ যখন তার বেশী ভুল সংঘটিত হয়।)]
২। ইমাম মুসলিম “আল-কুনা ওয়াল আসমা” গ্রন্থে (কাফ ৩১/১) বলেনঃمضطرب الحديث ليس له كبير حديث صحيح "তিনি মুযতারিবুল হাদীস তার বেশী পরিমাণে সহীহ হাদীস নেই।"
৩। ইমাম নাসাঈ তার "আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরূকীন" গ্রন্থের শেষে (পৃ. ৫৭) বলেনঃليس بالقوي في الحديث، وهو كثير الغلط على قلة روايته "তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। তার বর্ণনা কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেশী ভুলকারী।"
৪ । ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (২/৪০৩) বলেনঃ
له أحاديث صالحة، وعامة ما يرويه غلط وتصاحيف وزيادات في أسانيدها ومتونها، وتصاحيف في الرجال، وعامة ما يرويه كذلك، ولم يصح له في جميع ما يرويه، إلا بضعة عشر حديثا، وقد روى من الحديث لعله أرجح من ثلاثمائة حديث، من مشاهير وغرائب، وكله على هذه الصورة، لأنه ليس هو من أهل الحديث، ولا يحمل عمن يكون هذه صورته في الحديث
তার বর্ণিত কতিপয় সহীহ হাদীস রয়েছে, তবে তার অধিকাংশ বর্ণনাই ভুল। পড়তে এবং লিখতে ভুল করা হয়েছে। সেগুলোর সনদ এবং মতনে (ভাষায়) অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে পড়তে ও লিখতে ভুল করা হয়েছে। তার অধিকাংশ বর্ণনাগুলো সেরূপই। তিনি যে সব হাদীস বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে ১৩ হতে ১৯টি হাদীস ছাড়া বাকীগুলো সহীহ নয়। তিনি মশহুর ও গারীব মিলে একই ধাচের প্রায় তিনশতটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে যার অবস্থা এই, তার বর্ণিত হাদীস গ্রহণ করা হয় না।
৫। ইবনু সা’দ “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে (৬/২৫৬) বলেনঃ كان ضعيفا في الحديث তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন।
৬। উকায়লী "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (পৃ. ৪৩২) বলেনঃحدثنا عبد الله بن أحمد قال سمعت أبي يقول: حديث أبي حنيفة ضعيف "আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমার পিতাকে বলতে শুনেছিঃ আবু হানীফা (রহঃ) এর হাদীস দুর্বল।"
৭। ইবনু আবী হাতিম “আল-জারহু ওয়াত তাব্দীল” গ্রন্থে (৪/১/৪৫০) বলেন, হাজ্জাজ ইবনু হামযা আমাদেরকে বলেছেন, আমাদেরকে আব্দান ইবনু উসমান বলেছেনঃسمعت ابن المبارك يقول: كان أبو حنيفة مسكينا في الحديث "তিনি ইবনু মুবারাককে বলতে শুনেছেনঃ আবু হানীফা (রহঃ) ছিলেন হাদীসের ক্ষেত্রে মিসকীন।" (এ সনদ দুটো সহীহ)।
৮। আবু হাফস ইবনু শাহীন বলেনঃ আবু হানীফা (রহঃ) এর ফিকহের জ্ঞানের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু তিনি হাদীসের বিষয়ে সন্তোষজনক ছিলেন না। কারণ সনদগুলোর জন্য রয়েছেন সমালোচক। যার জন্য তিনি কি লিখেছেন তার সনদ সম্পর্কে জানতেন না। তবে তাকে মিথ্যুক বলা হয়নি। তাকে দুর্বল আখ্যা দেয়া হয়েছে। অনুরূপ কথা এসেছে “তারিখু জুরজন” গ্রন্থের শেষ কপিতে (পৃ. ৫১০-৫১১)।
৯। ইবনু হিব্বান বলেনঃ
وكان رجلا جدلا ظاهر الورع لم الحديث صناعته حدث بمئة وثلاثين حديثا مسانيد ما له حديث في الدنيا غيرها أخطأ منها في مئة وعشرين حديثا إما أن يكون أقلب إسناده أو غير متنه من حيث لا يعلم فلما غلب خطؤه على صوابه استحق ترك الاحتجاج به في الأخبار
"তিনি ছিলেন একজন তার্কিক, বাহ্যিকতায় ছিল পরহেজগারিতা, হাদীস তার কর্মের মধ্যে ছিল না। তিনি একশত ত্রিশটি মুসনাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেগুলো ছাড়া দুনিয়াতে তার আর কোন হাদীস নেই। যার মধ্যে একশত বিশটিতেই তিনি ভুল করেছেন। হয় সনদ উল্টিয়ে ফেলেছেন, না হয় তার অজান্তেই মতন (ভাষা) পরিবর্তন করে ফেলেছেন। অতএব যখন তার সঠিকের চেয়ে ভুলগুলোই বেশী, তখন হাদীসের ক্ষেত্রে তাকে গ্রহণ করার চেয়ে তাকে পরিত্যাগ করাই উপযোগী।"
১০। দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃ. ১২৩) বলেনঃ আবু হানীফা (রহঃ) মূসা ইবনু আবী আয়েশা হতে ... [জাবের (রাঃ)]-এর এ হাদীসটি মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেনঃمن كان له إمام فقراءة الإمام له قراءة "যার ইমাম রয়েছে ইমামের কিরাআত তার (মুক্তাদির) জন্য যথেষ্ট। অথচ আবু হানীফা (রহঃ) এবং হাসান ইবনু আম্মারা ছাড়া অন্য কেউ এ হাদীসটিকে মুসনাদ হিসাবে বর্ণনা করেননি। আবু হানীফা (রহঃ) এবং হাসান ইবনু আম্মারা; তারা উভয়েই দুর্বল।
১১। হাকিম “মারিফাতু উল্মিল হাদীস” গ্রন্থে তাকে [আবু হানীফা (রহঃ)] তাবে তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীদের মধ্য হতে সেই সব বর্ণনাকারীদের দলে উল্লেখ করেছেন যাদের হাদীস দ্বারা সহীহার মধ্যে দলীল গ্রহণ করেননি। অতঃপর তার বক্তব্য (পৃ. ২৫৬) শেষ করেছেন নিম্নের ভাষায়ঃ
"যে সব ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছি তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। কিন্তু তাদেরকে নির্ভরযোগ্য হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।"
১২। হাফিয আব্দুল হক ইশীলী "আল-আহকাম" গ্রন্থে (কাফ ১৭/২) খালেদ ইবনু আলকামা সূত্রে আব্দু খায়ের হতে উল্লেখ করেছেন, তিনি আলী (রাঃ) হতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযু সম্পর্কে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি তার মাথা মাসাহ করেছেন একবার।" অতঃপর বলেছেনঃ অনুরূপভাবেই খালেদ হতে হাফিযগণ বর্ণনা করেছেন। অথচ আবু হানীফা (রহঃ) খালেদ হতে বর্ণনা করেছেন এ ভাষায়ঃ তিনি বলেনঃ তিনি তার মাথা মাসাহ করেছেন তিনবার।
لا يحتج بأبي حنيفة لضعفه في الحديثহানীফার (রহঃ) দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না, হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল হওয়ার কারণে।
১৩। ইবনুল জাওয়ী তাকে তার "আয-যুয়াফা ওয়া মাতরূকীন" গ্রন্থে (৩/১৬৩) উল্লেখ করেছেন এবং তার দুর্বল হওয়ার বিষয়টি নাসাঈ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। সাওরী বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। নাযর ইবনু শুমায়েল বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস।
১৪। যাহাবী “দীওয়ানুয যুয়াফা” গ্রন্থে (কাফ ২১৫/১-২) বলেনঃ নুমান [ইমাম (রহঃ)] সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তার অধিকাংশ বর্ণনাই ভুল। পড়তে এবং লিখতে ভুল করা হয়েছে। সেগুলোর সনদ এবং মতনে (ভাষায়) অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। তবে তার কতিপয় সহীহ হাদীস রয়েছে। নাসাঈ বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। তার বর্ণনা কম হওয়া সত্ত্বেও বেশী ভুল করেছেন। ইবনু মা’ঈন বলেনঃ তার হাদীস লিখা যাবে না। দেখুনঃ "আর-রাফউ ওয়াত তাকমীল" (পৃ. ১০২)।
ইবনু মাঈন হতুে আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে একাধিক মতামত এসেছে। একবার বলেছেনঃ তিনি নির্ভরশীল, আবার বলেছেনঃ তিনি দুর্বল, আবার বলেছেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই, তিনি মিথ্যা বলেননি। আবার বলেছেনঃ আবু হানিফা আমাদের নিকট সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করা হয় নি।
এতে কোন সন্দেহ নেই আবু হানীফা (রহ:) সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তার হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তা যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে আয়ত্ব ও স্মৃতি শক্তির সংযোগ না ঘটবে। কিন্তু তা তার ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়নি বরং উল্লেখিত ইমামগণের সাক্ষ্য দ্বারা উল্টাটি সাব্যস্ত হয়েছে। তারা এমন এক জামা’আত যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং বক্তব্যের অনুসরণ কারার কারণে কেউ পথভ্রষ্ট হয় না। আর তার সম্পর্কে তাদের উক্ত সাক্ষ্য ও উক্তি ইমাম সাহেবের দীনদারী, সংযমশীলতা ও ফিকহের ক্ষেত্রে মানহানিকরও নয়। যেমনটি তার পরবর্তী কিছু অন্ধভক্ত ধারণা করে থাকে। বহু ফাকীহ, কাযী ও নেককার সম্পর্কেই হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ তাদের মুখস্থ এবং আয়ত্ব শক্তিতে ক্রটি থাকার কারণে সমালোচনা করেছেন। তথাপিও তা তাদের দীন ও ন্যায়পরায়নতার ক্ষেত্রে ক্রটিযুক্ত করেছে বলে ধরা হয় না। যেমন সুলায়মান আল-ফাকীহ, শুরায়েক ইবনু আবদিল্লাহ আল-কাযী এবং আব্বাদ ইবনু কাসীর ও আরো অনেকে। এমনকি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ কাত্তান বলেনঃ ’আমরা সালেহীনদের (সৎ কর্মশীলদের) চেয়ে হাদীসের ক্ষেত্রে বেশী মিথ্যুক দেখি না। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম তার সহীহার মুকাদ্দিমাতে (১/১৩), অতঃপর এর ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ তাদের মুখে মিথ্যা প্রবাহিত হয়েছে, অথচ তার ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেননি।
তিনি (ইমাম মুসলিম) আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি সুফিয়ান সাওরীকে বললামঃ আব্বাদ ইবনু কাসীরের সততা ও পরহেজগারিতার অবস্থা সম্পর্কে আপনি জানেন। কিন্তু তিনি যখনই হাদীস বর্ণনা করেছেন, মহা সমস্যা নিয়ে এসেছেন। অতঃপর আপনি মতামত দিয়েছেন যে, আমি যেন লোকদেরকে বলি তোমরা তার থেকে গ্রহণ করো না? সুফিয়ান বললেনঃ হ্যাঁ। আব্দুল্লাহ বললেনঃ আমি যখন কোন মজলিসে থাকতাম এবং সেখানে আব্বাদ সম্পর্কে আলোচনা হতো, তখন তার ধাৰ্মিকতার বিষয়ে প্রশংসা করতাম এবং বলতাম তার থেকে তোমরা গ্রহণ করো না।
আমি (আলাবনী) বলছিঃ এটিই হচ্ছে হক ও ইনসাফ ভিত্তিক কথা। এর উপরই আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত। ফিকহের পাণ্ডিত্য এক জিনিস আর হাদীস বহন ও তার হেফয করা হচ্ছে অন্য জিনিস। প্রতিটি বিষয়ের জন্যেই রয়েছে বিশেষ বিশেষ পণ্ডিতগণ। কোন সন্দেহ নেই ফিকহের বিদ্যায় এবং তার বুঝের ক্ষেত্রে তার (আবু হানীফার) মর্যাদা সুউচ্চ। এ কারণেই ইমাম শাফে’ঈ বলেছেনঃ ফিকহের ক্ষেত্রে মানুষ আবু হানীফার মুখাপেক্ষী। তবে তার কোন কোন গোড়া ভক্তদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত। যারা ইমাম দারাকুতনীকে আক্রমণ করে থাকেন, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল এ কথা বলার কারণে। কারণ তিনি এরূপ মন্তব্যকারী একা নন। তার সাথে রয়েছেন বড় বড় বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণও যেমনভাবে আপনারা জেনেছেন।
আলোচ্য হাদীসটি ইবনুল জাওয়ী তার “আল-মাওযু’আত” গ্রন্থে (৩/১২৭) প্রথম সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেন, দারাকুতনী বলেনঃ হাদীসটি বাতিল, এটির কোন ভিত্তি নেই। আবু কুরয হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু কুরয; তিনি মাতরূক। সুয়ুতী “আল লাআলী” গ্রন্থে (২/১৮৯) তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। সম্ভবত সহীহ্ হাদীসের সাথে এ হাদীসটির বিরোধ হওয়ার কারণে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আহলে কিতাবদ্বয়ের দিয়াত মুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক, তারা হচ্ছে ইয়াহুদ ও নাসারা। এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (নং ৬৬৯২-৫৭১৬), ইবনু আবী শায়বা "আল মুসান্নাফ" গ্রন্থে (১১/২৬/২) এবং সুনানের রচয়িতাগণ বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী এবং বাইহাকীও বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে তিরমিযী হাসান আখ্যা দিয়েছেন এবং ইবনু খুযায়মা বলেছেনঃ সহীহ; যেমনিভাবে হাফিয ইবনু হাজার "বুলুগুল মারাম" গ্রন্থে (৩/৩৪২-সুবুলুস সলাম সহ) বলেছেন। আমার নিকটেও এ হাদীসটির সনদ হাসান। আর এ কারণেই সুয়ুতীর উচিত ছিল আলোচ্য হাদীসটিকে "জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ না করা।
আবু দাউদেও এরূপ হাদীস এসেছে। যার শাহেদও ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীস হতে “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১৮৮/১) এসেছে। আমি আলোচ্য হাদীসের বিপরীতে এ হাসান হাদীসটির “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (২২৫১) তাখরীজ করেছি।
دية ذمي دية مسلم
منكر
-
أخرجه الطبراني في " الأوسط " (1 / 45 ـ 46 / 780) والدارقطني في " سننه " (ص 343، 349) والبيهقي (8 / 102) من طريق أبي كرز القرشي عن نافع عن ابن عمر مرفوعا، وضعفه الدارقطني بقوله: لم يرفعه عن نافع غير أبي كرز وهو متروك، واسمه عبد الله بن عبد الملك الفهري، وذكر الذهبي في ترجمته من " الميزان " أن هذا الحديث من أنكر ما له، ثم رواه الدارقطني من حديث أسامة بن زيد، وأعله بأن فيه عثمان بن عبد الرحمن الوقاصي متروك الحديث
قلت: بل هو متهم، وقد تقدم له غير ما حديث، ثم رواه البيهقي من حديث ابن عباس، وأعله بأن فيه الحسن بن عمارة قال: وهو متروك لا يحتج به
ومن طريق أخرى عنه، وفيه أبو سعد البقال، قال البيهقي
لا يحتج به، وقال الزيلعي (4 / 336) : فيه لين
ورواه الرافقي في حديثه (19 / 2) عن أبي هريرة، وفيه بركة بن محمد الأنصاري وهو الحلبي وليس فيه بركة، قال الدارقطني: كان يضع الحديث
ثم رواه البيهقي من حديث الزهري مرسلا، وقال: رده الشافعي بكونه مرسلا، وبأن الزهري قبيح المرسل
قال الشوكاني (7 / 55) مبينا وجه ذلك: لأنه حافظ كبير لا يرسل إلا لعلة
ورواه الإمام محمد في " كتاب الآثار " (ص 104) قال: أخبرنا أبو حنيفة عن الهيثم مرفوعا
قلت: وهذا معضل، فإن الهيثم هذا هو ابن حبيب الصيرفي الكوفي وهو من أتباع التابعين، روى عن عكرمة وعاصم بن ضمرة، وأبي حنيفة
وتوضيحا لذلك أقول: وأبو حنيفة ضعفوا حديثه كما سبق بيانه عند الحديث (397)
وتوضيحا لذلك أقول: ذكرت هناك أن الإمام رحمه الله قد ضعفه من جهة حفظه
البخاري، ومسلم، والنسائي، وابن عدي وغيرهم من أئمة الحديث، فأذكر هنا نصوص الأئمة المشار إليهم وغيرهم ممن صح ذلك عنهم، ليكون القاريء على بينة من الأمر، ولا يظن أحد منهم أن فيما ذكرنا هناك ما يمكن أن يدعي مدع أنه اجتهاد منا، وإنما هو الاتباع لأهل العلم والمعرفة والاختصاص، والله عز وجل يقول: (فاسألوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون) ، ويقول: (فاسأل به خبيرا)
1 - قال الإمام البخاري في " التاريخ الكبير " (4 / 2 / 81) : سكتوا عنه
2 - وقال الإمام مسلم في " الكنى والأسماء " (ق 31 / 1) : مضطرب الحديث ليس له كبير حديث صحيح
3 - وقال النسائي في آخر " كتاب الضعفاء والمتروكين " (ص 57) : ليس بالقوي في الحديث، وهو كثير الغلط على قلة روايته
4 - وقال ابن عدي في " الكامل " (403 / 2) : له أحاديث صالحة، وعامة ما يرويه غلط وتصاحيف وزيادات في أسانيدها ومتونها، وتصاحيف في الرجال، وعامة ما يرويه كذلك، ولم يصح له في جميع ما يرويه، إلا بضعة عشر حديثا، وقد روى من الحديث لعله أرجح من ثلاثمائة حديث، من مشاهير وغرائب، وكله على هذه الصورة، لأنه ليس هو من أهل الحديث، ولا يحمل عمن يكون هذه صورته في الحديث
5 - قال ابن سعد في " الطبقات " (6 / 256) : كان ضعيفا في الحديث
6 - وقال العقيلي في " الضعفاء " (ص 432) : حدثنا عبد الله بن أحمد قال
سمعت أبي يقول: حديث أبي حنيفة ضعيف
7 - وقال ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " (4 / 1 / 450) : حدثنا حجاج ابن حمزة قال: أنبأنا عبدان بن عثمان قال: سمعت ابن المبارك يقول: كان أبو حنيفة مسكينا في الحديث
8 - وقال أبو حفص بن شاهين: وأبو حنيفة، فقد كان في الفقه ما لا يدفع من علمه فيه، ولم يكن في الحديث بالمرضي، لأنه للأسانيد نقادا، فإذا لم يعرف الإسناد ما يكتب وما كذب نسب إلى الضعف
كذا في فوائد ثبتت في آخر نسخة " تاريخ جرجان " (ص 510 - 511)
9 - قال ابن حبان: وكان رجلا جدلا ظاهر الورع لم الحديث صناعته حدث بمئة وثلاثين حديثا مسانيد ما له حديث في الدنيا غيرها أخطأ منها في مئة وعشرين حديثا إما أن يكون أقلب إسناده أو غير متنه من حيث لا يعلم فلما غلب خطؤه على صوابه استحق ترك الاحتجاج به في الأخبار
10 - وقال الدارقطني في " سننه " وقد ساق عن أبي حنيفة عن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد عن جابر مرفوعا: " من كان له إمام فقراءة الإمام له قراءة "، فقال الدارقطني عقبه (ص 123) : لم يسنده عن موسى بن أبي عائشة غير أبي حنيفة، والحسن بن عمارة، وهما ضعيفان
11 - وأورده الحاكم في " معرفة علوم الحديث " في جماعة من الرواة من أتباع التابعين فمن بعدهم، لم يحتج بحديثهم في الصحيح، وختم ذلك بقوله (ص 256)
فجميع من ذكرناهم، قوم قد اشتهروا بالرواية، ولم يعدوا في طبقة الأثبات المتقنين الحفاظ
12 - وذكر الحافظ عبد الحق الأشبيلي في " الأحكام " (ق 17 / 2) حديث خالد بن علقمة عن عبد خير عن على في وضوئه صلى الله عليه وسلم: فمسح برأسه مرة، وقال عقبه: كذا رواه الحفاظ الثقات عن خالد، ورواه أبو حنيفة عن خالد فقال: ومسح رأسه ثلاثا
ولا يحتج بأبي حنيفة لضعفه في الحديث
13 - وأورده ابن الجوزي في كتابه " الضعفاء والمتروكين " (3 / 163) ونقل تضعيف النسائي وغيره ممن تقدم ذكره وعن الثوري أنه قال: ليس بثقة وعن النضر ابن شميل: متروك الحديث
14 - قال الذهبي في " ديوان الضعفاء " (ق 215 / 1 - 2) : النعمان الإمام رحمه الله، قال ابن عدي: عامة ما يرويه غلط وتصحيف وزيادات، وله أحاديث صالحة، وقال النسائي: ليس بالقوي في الحديث كثير الغلط والخطأ على قلة روايته، وقال ابن معين: لا يكتب حديثه
وهذا النقل عن ابن معين معناه عنده أن أبا حنيفة من جملة الضعفاء، وهو يبين لنا أن توثيق ابن معين للإمام أبي حنيفة الذي ذكره الحافظ في " التهذيب " ليس قولا واحدا له فيه، والحقيقة أن رأى ابن معين كان مضطربا في الإمام، فهو
تارة يوثقه، وتارة يضعفه كما في هذا النقل، وتارة يقول فيما يرويه ابن محرز عنه في " معرفة الرجال " (1 / 6 / 1) : كان أبو حنيفة لا بأس به، وكان لا يكذب، وقال مرة أخرى: أبو حنيفة عندنا من أهل الصدق، ولم يتهم بالكذب
ومما لا شك فيه عندنا أن أبا حنيفة من أهل الصدق، ولكن ذلك لا يكفي ليحتج بحديثه حتى ينضم إليه الضبط والحفظ، وذلك مما لم يثبت في حقه رحمه الله، بل ثبت فيه العكس بشهادة من ذكرنا من الأئمة، وهم القوم لا يضل من أخذ بشهادتهم واتبع أقوالهم، ولا يمس ذلك من قريب ولا من بعيد مقام أبي حنيفة رحمه الله في دينه وورعه وفقهه، خلافا لظن بعض المتعصبين له من المتأخرين فكم من فقيه وقاض وصالح تكلم فيهم أئمة الحديث من قبل حفظهم، وسوء ضبطهم، ومع ذلك لم يعتبر ذلك طعنا في دينهم وعدالتهم، كما لا يخفى ذلك على المشتغلين بتراجم الرواة، وذلك مثل محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى القاضي وحماد بن أبي سليمان الفقيه وشريك بن عبد الله القاضي وعباد بن كثير وغيرهم، حتى قال يحيى بن سعيد القطان: لم نر الصالحين في شيء أكذب منهم في الحديث، رواه مسلم في مقدمة صحيحه (1 / 13) وقال في تفسيره: يقول يجري الكذب على لسانهم، ولا يتعمدون الكذب، وروى أيضا عن عبد الله بن المبارك قال: قلت لسفيان الثوري: إن عباد بن كثير من تعرف حاله (يعني في الصلاح والتقوى) وإذا حدث جاء بأمر عظيم، فترى أن أقول للناس: لا تأخذوا عنه؟ قال: سفيان: بلى، قال عبد الله: فكنت إذا كنت في مجلس ذكر فيه عباد أثنيت عليه في دينه، وأقول: لا تأخذوا عنه
قلت: فهذا هو الحق والعدل وبه قامت السماوات والأرض، فالصلاح والفقه شيء وحمل الحديث وحفظه وضبطه شيء آخر، ولكل رجاله وأهله، فلا ضير على أبي حنيفة رحمه الله أن لا يكون حافظا ضابطا، ما دام أنه صدوق في نفسه، أضف إلى ذلك جلالة قدره في الفقه والفهم، فليتق الله بعض المتعصبين له ممن يطعن في مثل الإمام الدارقطني لقوله في أبي حنيفة ضعيف في الحديث
ويزعم أنه ما قال ذلك إلا تعصبا على أبي حنيفة، ولم يدر البعض المشار إليه أن مع الدارقطني أئمة الحديث الكبار مثل الشيخين وأحمد وغيرهم ممن سبق ذكرهم أفكل هؤلاء متعصبون ضد أبي حنيفة؟ ! تالله إن شخصا يقبل مثل هذه التهمة توجه إلى مثل هؤلاء، لأيسر عليه وأقرب إلى الحق أن يعكس ذلك فيقول: صدوق هؤلاء فيما قالوه في الإمام أبي حنيفة، ولا ضير عليه في ذلك، فغايته أن لا يكون محدثا ضابطا، وحسبه ما أعطاه الله من العلم والفهم الدقيق حتى قال الإمام الشافعي: الناس عيال في الفقه على أبي حنيفة، ولذلك ختم الحافظ الذهبي ترجمة الإمام في " سير النبلاء " (5 / 288 / 1) بقوله وبه نختم
قلت: الإمامة في الفقه ودقائقه مسلمة إلى هذا الإمام، وهذا أمر لا شك فيه
وليس يصح في الأذهان شيء * إذا احتاج النهار إلى دليل "
ثم إن الحديث أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 127) من الطريق الأولى، وقال: قال الدارقطني: باطل لا أصل له، وأبو كرز عبد الله بن كرز متروك، وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 189) وزاد عليه، فذكر ما سبق نقله عن الذهبي وأنه أخرجه الطبراني في " الأوسط " يعني من الطريق المذكور
وهذا شيء غير معهو د من السيوطي فإن عادته أن يتعقب ابن الجوزي في مثل هذا الحديث، الذي له ما سبق ذكره من الشواهد! ولعله إنما أمسك عن ذكرها لأنها مع ضعفها تعارض الحديث الثابت، وهو قوله صلى الله عليه وسلم
" إن عقل أهل الكتابين نصف عقل المسلمين "، وهم اليهود والنصارى
أخرجه أحمد (رقم 6692، 5716) وابن أبي شيبة في " المصنف " (11 /26 / 2) وأصحاب " السنن " والدارقطني والبيهقي من طريق عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده وحسنه الترمذي (1 / 312) وصححه ابن خزيمة كما قال الحافظ في " بلوغ المرام " (3 / 342 بشرح سبل السلام) وهو حسن الإسناد عندي، وعلى هذا فكان على السيوطي أن لا يورد الحديث في " الجامع الصغير " لمعارضته لهذا الحديث الثابت، ولفظه عند أبي داود: كانت قيمة الدية على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمانمائة دينار: ثمانية آلاف درهم، ودية أهل الكتاب يومئذ النصف من دية المسلمين، وله شاهد من حديث ابن عمر في " المعجم الأوسط " (1 / 188 / 1)
وقد خرجته في " الإرواء " (2251)
ومن أراد تحقيق القول في هذا الحديث من الناحية الفقهية فليراجع " سبل السلام " للصنعاني "، و" نيل الأو طار " للشوكاني
পরিচ্ছেদঃ
৪৬০। যে তার যিম্মাদারিত্ব পূর্ণ করে তাদের মধ্যে আমি উত্তম। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি সেই সময়ে বলেছিলেন যখন তিনি যিম্মীদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করার দায়ে এক মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দেন।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইবনু আবী শায়বা (১১/২৭/১), আব্দুর রাযযাক (১৮৫১৪), আবু দাউদ "আল-মারাসীল" গ্রন্থে (২০৭/২৫০), তাহাবী (২/১১১), দারাকুতনী (পৃ. ৩৪৫) ও বাইহাকী (৮/২০-২১) রাবীয়াহ ইবনু আবী আবদির রহমান সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনু বায়লামানী হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাহাবী মুরসাল বলে এটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী এবং বাইহাকী এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত আম্মার ইবনু মাতার সূত্রে পৌছিয়েছেন। যার সনদে ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আসলামী এবং ইবনু বায়লামানী রয়েছেন। দারাকুতনী বলেনঃ এটিকে ইবরাহীম ছাড়া অন্য কেউ মুসনাদ হিসাবে বর্ণনা করেননি। তিনি মাতরূকুল হাদীস। সঠিক হচ্ছে রাবীয়াহ ইবনুল বায়লামানীর মধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল বায়লামান দুর্বল। যখন তিনি মওসুল হিসাবে বর্ণনা করেন, তখন তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। অতএব কীভাবে তার মুরসালকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায়?
হাফিয ইবনু হাজার তার এ কথাকে "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে (১২/২২১) সমর্থন করেছেন। বাইহাকী সালেহ ইবনু মুহাম্মাদের উদ্ধৃতিতে বলেনঃ হাদীসটি মুরসাল মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ অন্য দুটি সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ
১। একটির সনদে ইয়াহইয়া ইবনু সলাম রয়েছেন। তিনি তার শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়েদ হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটি তাহাবী বর্ণনা করেছেন। এটি মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও নিতান্তই দুর্বল। ইয়াহইয়াকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন আর মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়েদ নিতান্তই দুর্বল। বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।
২। এ সনদটিতে আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াকুব রয়েছেন। তিনি তার শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল আযীয ইবনে সালেহ হাযরামী হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ তার “আল-মারাসীল” গ্রন্থে (২০৮/২৫১) বর্ণনা করেছেন। যায়লাঈ “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (৪/৩৩৬) বলেন, ইবনুল কাত্তান তার কিতাবে বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াকুব এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল আযীয তারা উভয়েই মাজহুল। তাদের দু’জনের জীবনী পাচ্ছি না। অতঃপর তিনি (যায়লাঈ) তা স্বীকার করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সূত্রগুলো খুবই দুর্বল। এসব দ্বারা আলোচ্য হাদীসটি শক্তিশালী হয় না। এছাড়া সহীহ হাদীস তার বিপরীতে থাকার কারণে হাদীসটির দুর্বলতাকে আরো বৃদ্ধি করছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃلا يقتل مسلم بكافر “কাফিরকে হত্যার দায়ে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না।’ হাদীসটি বুখারী (১২/২২০) ও অন্যরা আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এটিই হচ্ছে জামহুরে ওলামার মত। কিন্তু হানাকী আলেমগণ সহীহ হাদীস বাদ দিয়ে আলোচ্য দুর্বল ও মুনকার হাদীসটি গ্রহণ করেছেন। অবশ্য তাদের কেউ কেউ সহীহ হাদীসের দিকে ফিরে এসে ইনসাফ করেছেন। যেমন বাইহাকী এবং খাতীব বাগদাদীর "আল-ফাকীহ" গ্রন্থের (২/৫৭) মধ্যে এসেছে আব্দুল ওয়াহেদ ইবনু যিয়াদের সাথে আলোচনার পর ইমাম যুফার প্রত্যাবর্তন করেন। আবু ওবায়দাও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটির সনদটি সহীহ যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন।
উসতাদ মওদূদী তার “হুকুকুল আম্মা লি আহলিয যিম্মা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনঃ
১। “যিম্মীর দিয়াত হচ্ছে মুসলিমের দিয়াত।” এ হাদীসটির অবস্থা সম্পর্কে ৪৫৮ নং হাদীসের মধ্যে অবহিত হয়েছেন।
২। “যিম্মীর খুন মুসলিম ব্যক্তির খুনের ন্যায়। যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করে, তাহলে তার থেকে তার জন্য কিসাস নেয়া হবে, যেমনভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে কিসাস নেয়া হতো।” এ হাদীসটি দারাকুতনীর বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। যেটির সনদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দারাকুতনী নিজেই এটিকে দুর্বল বলেছেন। অতঃপর তিনি কতিপয় আসার তিন খালীফা হতে বর্ণনা করেছেন; উমার, উসমান ও আলী (রাঃ) থেকে।
উমার (রাঃ) হতে ইব্রাহীম নাখ’ঈর বর্ণনায় একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে যে, বানু বাকরের এক ব্যক্তি কর্তৃক এক যিম্মীকে হত্যার দায়ে কাতিলকে উমার (রাঃ) মাকতুলের অভিভাবকদের নিকট তুলে দিতে বলেছিলেন এবং তাই করা হয়েছিল। অতঃপর তারা তাকে হত্যা করে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদটি সহীহ নয়। কারণ ইবরাহীম নাখ’ঈ উমার (রাঃ)-এর যুগকে পাননি। এটি আব্দুর রাযযাক তার "আল-মুসান্নাফ" গ্রন্থে সংক্ষেপে (১০/১০১/১৮৫১৫) এবং বাইহাকী “আল-মারিফাত” গ্রন্থে পূরোটাই বর্ণনা করেছেন, যেমনভাবে “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (৪/৩৩৭) এসেছে। বাইহাকীর সনদে আবু হানীফা (রহঃ) রয়েছেন। তার অবস্থা সম্পর্কে আপনারা একটি হাদীস পূর্বে অবহিত হয়েছেন।
এটি মওসূল হিসাবে অন্য সূত্র হতে এসেছে। তবে ভাষায় কিছু বেশী আছে যা দলীল গ্রহণ করাকে নষ্ট করে দেয়, যদি সেটি সহীহ্ হত। কারণ তাতে বলা হয়েছেঃ উমার (রাঃ) দিয়াত দিতে বলেছেন। হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। এটি তাহাবী (২/১১২) বর্ণনা করেছেন। উসমান (রাঃ)-এর আসার দীর্ঘ ঘটনার সার সংক্ষেপ হচ্ছে এই যে, উমার (রাঃ)-কে হত্যাকারী আবু লুলুওয়াকে হত্যার জন্য তাঁর ছেলে ওবায়দুল্লাহ আবু লুলুওয়ার ছোট মেয়ের নিকট যান। সে ছিল ইসলামের দাবীদার। অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করেন এবং তার সাথে হুরমুযান ও যুফায়নাকে (সে নাসরানী ছিল) হত্যা করেন। ঘটনা উসমান (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি এ বিষয়ে সকলের সাথে পরামর্শ করেন। যাতে তারা সকলে তাকে কিসাস হিসাবে হত্যার সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু লোকদের মাঝে বেশী হট্টগোল দেখা দিলে, তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। যার ফলে দু’ব্যক্তি এবং এক মেয়ের দিয়াত দেয়া হয়।
এটি তাহাবী “শারহু মায়ানীল আসার” গ্রন্থে (২/১১১) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে বর্ণনা করেছেন। যার সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ রয়েছেন। তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু ইবনু সা’দ “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে (৩/১/২৫৬-২৫৮) অন্য সূত্রে সহীহ সনদে সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন। যার বাহ্যিকতা প্রমাণ করছে যে, এটি মুরসাল। কারণ উমার (রাঃ) কে হত্যা করার সময় সে (সাঈদ) ছিল ছোট। তার বয়স তখন নয় বছরেরও কম। যার বয়স এত কম সে কীভাবে এরূপ সংবাদ শিক্ষা নিতে পারে? যাই হোক যিম্মী হত্যার দায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঘটনাটি এমন নয়। কারণ তিনি যুফায়না নাসরানীর সাথে আরো দু’জন মুসলিমকে হত্যা করেন। আবু লুলুয়ার মেয়ে এবং হুরমুযানকে। হুরমুযান ছিল একজন মুসলিম, যেমনভাবে বাইহাকীর বর্ণনায় এসেছে। অতএব তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল দু’জন মুসলিমকে হত্যার জন্যে। সেই নাসরানীকে হত্যার দায়ে নয়।
আলী (রাঃ) হতে যে আসারটি এসেছে; সেটি উমার (রাঃ)-এর আসারের ন্যায়। তাতে মাকতুলের [নিহতের] ভাই হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন...। এটির সনদটি দুর্বল। যায়লাঈ (৪/৩৩৭) এবং অন্যরা এটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার আসারটির সমস্যায় বলেছেনঃ তাতে হুসাইন ইবনু মায়মুন রয়েছেন। তার সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে শক্তশালী নন। বুখারী তাকে দুর্বলদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। এটির সনদে আরো রয়েছেন কায়স ইবনু রাবী’, তিনিও দুর্বল। তার পরেও এটি সহীহ হাদীস বিরোধী, যেটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
أنا أولى من وفى بذمته " قاله صلى الله عليه وسلم حين أمر بقتل مسلم كان قتل رجلا من أهل الذمة
منكر
-
أخرجه ابن أبي شيبة (11 / 27 / 1) وعبد الرزاق (18514) وأبو داود في المراسيل (207 / 250) والطحاوي (2 / 111) والدارقطني (ص 345) والبيهقي (8 / 20 - 21) من طريق ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن عبد الرحمن بن البيلماني أن النبي صلى الله عليه وسلم أتي برجل من المسلمين قد قتل معاهدا من أهل الذمة فأمر به فضرب عنقه وقال ... فذكره، وأعله الطحاوي بالإرسال، وقد وصله الدارقطني والبيهقي من طريق عمار بن مطر، أنبأنا إبراهيم بن محمد الأسلمي عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن ابن البيلماني عن ابن عمر به، وقال الدارقطني: لم يسنده غير إبراهيم بن أبي يحيى وهو متروك الحديث، والصواب عن ربيعة عن ابن البيلماني مرسل عن النبي صلى الله عليه وسلم وابن البيلماني ضعيف لا تقوم به حجة إذا وصل الحديث فكيف بما يرسله؟
وأقره الحافظ في " الفتح " (12 / 221) ، ونقل البيهقي عن الإمام صالح بن محمد الحافظ أنه قال: هو مرسل منكر
قلت: وروى من وجهين آخرين مرسلين
الأول: عن يحيى بن سلام عن محمد بن أبي حميد عن محمد بن المنكدر عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله، أخرجه الطحاوي
وهذا مع إرساله ضعيف جدا، يحيى بن سلام ضعفه الدارقطني، ومحمد بن أبي حميد ضعيف جدا، قال البخاري: منكر الحديث، وقال النسائي: ليس بثقة
الآخر: عن عبد الله بن يعقوب حدثنا عبد الله بن عبد العزيز بن صالح الحضرمي عنه صلى الله عليه وسلم نحوه
أخرجه أبو داود في " المراسيل " (208 / 251) قال الزيلعي في " نصب الراية " (4 / 336)
وقال ابن القطان في كتابه: وعبد الله بن يعقوب وعبد الله بن عبد العزيز مجهولان ولم أجد لهما ذكرا
وأقره الزيلعي
قلت: فهذه طرق شديدة الضعف لا يتقوى بها الحديث، ويزيده ضعفا أنه معارض للحديث الصحيح وهو قوله صلى الله عليه وسلم: لا يقتل مسلم بكافر
أخرجه البخاري (12 / 220) وغيره عن علي رضي الله عنه وهو مخرج في الإرواء (2209) ، وبه أخذ جمهو ر الأئمة، وأما الحنفية فأخذوا بالأول على ضعفه ومعارضته للحديث الصحيح! وقد أنصف بعضهم فرجع إلى الحديث الصحيح فروى البيهقي والخطيب في " الفقيه " (2 / 57) عن عبد الواحد بن زياد قال: لقيت زفر فقلت له صرتم حديثا في الناس وضحكة! قال: وما ذلك؟ قال: قلت
تقولون في الأشياء كلها: ادرءوا الحدود بالشبهات، وجئتم إلى أعظم الحدود فقلتم: تقام بالشبهات! قال: وما ذلك؟ قلت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يقتل مؤمن بكافر "، فقلتم: يقتل به! قال: فإنى أشهدك الساعة أني قد رجعت عنه، ورواه أبو عبيد بنحوه، وسنده صحيح كما قال الحافظ
ثم وقفت بعد ذلك على فصل للأستاذ المودودي في " الحقوق العامة لأهل الذمة " في كتابه " نظرية الإسلام وهديه "، لفت انتباهي فيه مسألتان
الأولى: قوله: إن دية الذمى دية المسلم، وقد سبق بيان ما فيه عند الكلام على الحديث (458) : والأخرى قوله (ص 341)
دم الذمي كدم المسلم، فإن قتل مسلم أحدا من أهل الذمة اقتص منه له كما لو قتل مسلما، ثم ذكر هذا الحديث من رواية الدارقطني محتجا به، وقد عرفت من تخريجنا للحديث أن الدارقطني رحمه الله لما خرجه عقبه ببيان ضعفه، فالظاهر أن الأستاذ لم يقف على هذا التضعيف، وإنما رأى بعض فقهاء الحنفية الذين لا معرفة عندهم بالتخريج عزى هذا الحديث إلى الدارقطني ولم يذكر معه تضعيفه، فظن الأستاذ أن الدارقطني سكت عنه، ولولا ذلك لما سكت عنه الأستاذ ولأتبعه بنقل التضعيف كما تقتضيه الأمانة العلمية، ثم إن الأستاذ أتبع الحديث ببعض الآثار عن الخلفاء الثلاثة: عمر وعثمان وعلى رضي الله عنهم، استدل بها أيضا على قوله المذكور، فرأيت الكلام عليها بما يقتضيه علم الحديث حتى يكون المسلم على بينة من الأمر، أما أثر عمر فخلاصته أن رجلا من بني بكر بن وائل قتل رجلا من أهل الذمة، فأمر عمر بتسليم القاتل إلى أولياء المقتول، فسلم إليهم فقتلوه
قلت: فهذا لا يصح إسناده لأنه من رواية إبراهيم وهو النخعي أن رجلا.. هكذا رواه عبد الرزاق في " مصنفه " (10 / 101 / 18515) مختصرا ورواه البيهقي في " المعرفة " بتمامه كما في " نصب الراية " للزيلعي (4 / 337) ، وإبراهيم لم يدرك زمان عمر وفي إسناد البيهقي أبو حنيفة وقد عرفت ما قيل فيه قبل حديث، على أنه قد جاء موصولا من طريق أخرى فيها زيادة في آخره تفسد الاستدلال به لوصح، وهي: فكتب عمر: أن يودى ولا يقتل
رواه الطحاوى (2 / 112) عن النزال بن سبرة قال: قتل رجل من المسلمين رجلا من الكفار
أما أثر عثمان ففيه قصة طويلة، خلاصتها أن أبا لؤلؤة لعنه الله لما قتل عمر رضي الله عنه، ذهب ابنه عبيد الله إلى ابنة لأبي لؤلؤة صغيرة تدعي الإسلام، فقتلها وقتل معها الهرمزان وجفينة وكان نصرانيا، فعل ذلك لظنه أنهم تمالؤوا على قتل أبيه، فلما استخلف عثمان رضي الله عنه استشار المهاجرين على قتله، فكلهم أشاروا عليه بذلك، ثم حال بينه وبين ذلك أن كثر اللغط والاختلاف من جل الناس يقولون لجفينة والهرمزان: أبعدهما الله، لعلكم تريدون أن تتبعوا عمر ابنه! ثم قال عمرو بن العاص لعثمان: يا أمير المؤمنين إن هذا الأمر قد كان قبل أن يكون لك على الناس سلطان، فتفرق الناس عن خطبة عمرو، وانتهى إليه عثمان، وودى الرجلان والجارية
أخرجه الطحاوي في " شرح المعاني " (2 / 111) عن سعيد بن المسيب، وفي سنده عبد الله بن صالح وفيه ضعف، لكن رواه ابن سعد في " الطبقات " (3 / 1 / 256 - 258) من طريق أخرى بسند صحيح عن سعيد، وظاهره الإرسال لأنه كان صغيرا لما قتل عمر، كان عمره يومئذ دون التاسعة، ويبعد لمن كان في مثل هذه السن أن يتلقى هذا الخبر عن صاحب القصة مباشرة وهو عبيد الله بن عمر، ثم لا يسنده عنه، فإن كان سمعه منه أو من غيره ممن أدرك القصة من الثقات فالسند صحيح، وإلا فلا، لجهالة الواسطة، اللهم إلا عند من يقول بأن مراسيل سعيد حجة
وعلى كل حال فليس في القصة نص على أن المسلم يقتل بالذمي لأن عثمان والمهاجرين الذين أرادوا قتله لم يصرحوا بأن ذلك لقتله جفينة النصراني، كيف وهو قد قتل مسلمين معه: ابنة أبي لؤلؤة، والهرمزان فإنه كان مسلما كما رواه البيهقي، فهو يستحق القتل لقتله إياهما، لا من أجل النصراني والله أعلم
وأما أثر علي، فهو نحوأثر عمر، إلا أن فيه
" فجاء أخوه (أي القتيل) فقال: قد عفوت، فقال: لعلهم فزعوك أو هددوك؟ قال
لا ... ". فهذا إسناده ضعيف، ضعفه الزيلعي (4 / 337) وغيره، وأعلوه بأن فيه حسين بن ميمون، قال أبو حاتم: ليس بالقوي في الحديث، وذكره البخاري في " الضعفاء "، وفيه أيضا قيس بن الربيع وهو ضعيف
على أنه بالإضافة إلى ضعف إسناده، فإنه مخالف لحديثه المتقدم " لا يقتل مسلم بكافر " ولهذا قال الزيلعي
قال الشافعي: فيه دليل على أن عليا لا يروي عن النبي صلى الله عليه وسلم شيئا يقول بخلافه
فتبين أن هذه الآثار لا يثبت شيء منها، فلا يجوز الاستدلال بها، هذا لو لم تعارض حديثا مرفوعا؟ فكيف وهي معارضة لحديث علي المذكور؟ ! فهذا يبين لك بوضوح أثر الأحاديث الضعيفة بحيث أنه استبيح بها دماء المسلمين
وعورضت بها الأحاديث الصحيحة الثابتة عن سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم
পরিচ্ছেদঃ
৪৬১। নারীরা হচ্ছে খেলনার পাত্র, অতএব তোমরা তাদের বাছাই করে নাও।
হাদীসটি মুনকার।
এটি হাকিম তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে এবং তার থেকে দাইলামী মুয়াল্লাক হিসাবে (৩/১১০) ইবনু লাহীয়ার সূত্রে আহওয়াস ইবনু হাকীম হতে ... মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী "আল-লাআলী" গ্রন্থে (২/১৮৯) হাদীসটি অনুরূপ অর্থে আলী (রাঃ) এর হাদীসের শাহেদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
ইবনুল জাওষী বলেনঃ এটি সহীহ নয়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সুয়ূতী অভ্যাসগতভাবে এ শাহেদটির ব্যাপারে চুপ থেকেছেন, অথচ সেটি নিতান্তই দুর্বল। তাতে তিনটি সমস্যা রয়েছেঃ ইবনু লাহীয়াহ দুর্বলতায় প্রসিদ্ধ। আহওয়াস; তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন এবং ইবনুল মাদীনী বলেনঃ তিনি কিছুই না। তার পরেও এটি হচ্ছে মুনকাতি। আহওয়াস এবং আমরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এ জন্যে ইবনু আররাক (২/২২৬) বলেনঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল। হাদীসটি দুর্বল ও মুনকার হওয়ার প্রমাণ বহন করছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সাব্যস্ত এ হাদীসটি “إنما النساء شقائق الرجال” নারীরা হচ্ছে পুরুষদের সহোদর। সহীহ্ আবৃ দাউদঃ (২৩৪)।
النساء لعب فتخيروا
منكر
-
رواه الحاكم في تاريخه وعنه الديلمي معلقا (3 / 110) من طريق ابن لهيعة عن الأحوص بن حكيم عن عمرو بن العاص مرفوعا
ذكره السيوطي في " اللآليء " (2 / 189) شاهدا لحديث علي بمعناه قال ابن الجوزي فيه: لا يصح
قلت: وهذا الشاهد سكت عنه السيوطي كغالب عادته، وهو ضعيف جدا فيه ثلاث علل: ابن لهيعة مشهور بالضعف، والأحوص قال ابن معين وابن المديني: ليس بشيء، ثم إنه منقطع بين الأحوص وعمرو، ولذلك قال ابن عراق (2 / 226) سنده ضعيف، ومما يدل على نكارة الحديث أنه ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال
" إنما النساء شقائق الرجال "، وهو مخرج في " صحيح أبي داود " (234) قلت: فيبعد كل البعد أن يصفهن عليه الصلاة والسلام بأنهن " لعب "
وقد روى الحديث بأتم منه وهو ضعيف أيضا، وهو (الأتي)
পরিচ্ছেদঃ
৪৭৮৷ হজ্জ অথবা উমরাকারী অথবা আল্লাহর পথের যুদ্ধকারী ছাড়া কেউ সমুদ্রে ভ্রমণ করবে না। কারণ সমুদ্রের নিচে রয়েছে আগুন আর আগুনের নিচে রয়েছে সমুদ্র।
হাদীসটি মুনকার।
এটি আবু দাউদ (১/৩৮৯), আল-খাতীব “আত-তালখীস” গ্রন্থে (১/৭৮) এবং তার থেকে বাইহাকী (৪/৩৩৪) বিশর আবু আবদিল্লাহ সূত্রে বাশীর ইবনু মুসলিম হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আল-খাতীব বলেনঃ আহমাদ বলেছেনঃ হাদীসটি গারীব।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। তাতে জাহালাত [অপরিচিত বর্ণনাকারী] রয়েছে এবং ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে।
যাহালাত; হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব" গ্রন্থে বিশর এবং বাশীরের জীবনীতে বলেছেনঃ তারা দু’জন মাজহুল অপরিচিত। অনুরূপ এসেছে “আল-মীযান" গ্রন্থেও৷ বিশরের মুতাবা’আত করেছেন মাতরাফ ইবনু তুরাইফ বাশীর ইবনু মুসলিম হতে। যেটি বুখারী "আত-তারীখ" গ্রন্থে (১/২/১০৪) এবং আবূ উসমান আন নুজায়রেমী “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/৫/১) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বাশীর জাহালাত হতে নিরাপদ হননি। যার জন্য ইমাম বুখারী পরক্ষণেই বলেছেনঃ তার হাদীসটি সহীহ নয়।
ইযতিরাব; সেটি মুনযেরী “মুখতাসারুস সুনান” গ্রন্থে (৩/৩৫৯) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হাদীসটিতে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। ইমাম বুখারী তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে তাকে (মাতরাফকে) উল্লেখ করে তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তার ইযতিরাবও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন তার হাদীসটি সহীহ নয়। খাত্তাবী বলেনঃ মুহাদ্দিসগণ এ হাদীসটির সনদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু মুলাক্কান "আল-খুলাসা" গ্রন্থে (১/৭৩) বলেনঃ হাদীসটি ইমামদের ঐক্যমতে দুর্বল। বুখারী বলেনঃ হাদীসটি সহীহ্ নয়। আহমাদ বলেনঃ হাদীসটি গারীব। আবু দাউদ বলেনঃ হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ মাজহুল। খাত্তাবী বলেনঃ হাদীসটির সনদকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন। আব্দুল হক (২/২০৭) বলেনঃ আবু দাউদ বলেছেনঃ এ হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল। বিশর এবং বাশীর দু’জনই মাজহুল।
لا يركب البحر إلا حاج أو معتمر أو غاز في سبيل الله، فإن تحت البحر نارا وتحت النار بحرا
منكر
-
أخرجه أبو داود (1 / 389) والخطيب في " التلخيص " (78 / 1) وعنه البيهقي (4 / 334) من طريق بشر أبي عبد الله عن بشير بن مسلم عن عبد الله بن عمرو مرفوعا، وقال الخطيب: قال أحمد: حديث غريب
قلت: وهذا سند ضعيف فيه جهالة واضطراب
أما الجهالة فقال الحافظ في ترجمة بشر وبشير من التقريب: مجهولان، ونحوه في " الميزان " نعم تابعه مطرف بن طريف عن بشير بن مسلم عند البخاري في " التاريخ " (1 / 2 / 104) وأبي عثمان النجيرمي في " الفوائد " (2 / 5 / 1) لكنه لم يسلم من جهالة بشير ولذلك قال البخاري عقبه: ولم يصح حديثه
وأما الاضطراب فقد بينه المنذري في " مختصر السنن " (3 / 359) فقال: في الحديث اضطراب، روي عن بشير هكذا، وروي عنه أنه بلغه عن عبد الله بن عمرو، وروى عنه عن رجل عن عبد الله بن عمرو، وقيل غير ذلك، وذكره البخاري في " تاريخه "، وذكر له هذا الحديث، وذكر اضطرابه وقال: لم يصح حديثه، وقال الخطابي: وقد ضعفوا إسناد هذا الحديث.
قلت: وقال ابن الملقن في " الخلاصة " (73 / 1) : وهو ضعيف باتفاق الأئمة، قال البخاري: ليس بصحيح، وقال أحمد: غريب، وقال أبو داود: رواته مجهولون، وقال الخطابي: ضعفوا إسناده، وقال صاحب " الإمام ": اختلف في إسناده، وقال عبد الحق (207 / 2) : قال أبو داود: هذا حديث ضعيف جدا، بشر أبو عبد الله وبشير مجهولان.
ولا يقويه أنه روى الشطر الأول منه من حديث أبي بكر بلفظ (الأتي)
পরিচ্ছেদঃ
৪৭৯। যোদ্ধা বা হজ্জ বা উমরাকারী ছাড়া কেউ সমুদ্র ভ্রমণ করবে না।
হাদীসটি মুনকার।
এটি হারিস ইবনু আবী উমামাহ (পৃ. ৯০) খালীল ইবনু জাকারিয়া হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসটিকে শক্তি যোগায় না। কারণ হাদীসটির সনদ এ খালীলের কারণে নিতান্তই দুর্বল।
ইবনুস সাকান বলেনঃ তিনি ইবনু আউন এবং হাবীব ইবনুশ শহীদ হতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি।
উকায়লী বলেনঃ তিনি নির্ভরশীলদের থেকে বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি মাতরূক।
لا يركب البحر إلا غاز أو حاج أو معتمر
منكر
-
أخرجه الحارث بن أبي أسامة (ص 90 من زوائده) حدثنا الخليل بن زكريا، حدثنا حبيب بن الشهيد، عن الحسن بن أبي الحسن عنه مرفوعا
قلت: فهذا لا يقوي الحديث الذي قبله، لأن إسناده ضعيف جدا من أجل الخليل هذا قال ابن السكن: حدث عن ابن عون وحبيب بن الشهيد أحاديث مناكير لم يروها غيره وقال العقيلي: يحدث عن الثقات بالبواطل، وقال الحافظ في " التقريب ": إنه متروك
قلت: ولا يخفى ما في هذا الحديث من المنع من ركوب البحر في سبيل طلب العلم والتجارة ونحوذلك من المصالح التي لا يعقل أن يصد الشارع الحكيم الناس عن تحصيلها بسبب مظنون ألا وهو الغرق في البحر، كيف والله تعالى يمتن على عباده بأنه خلق لهم السفن وسهل لهم ركوب البحر بها.. فقال: (وآية لهم أنا حملنا ذريتهم في الفلك المشحون وخلقنا لهم من مثله ما يركبون) (يس: 41، 42) أي السفن على القول الصحيح الذي رجحه القرطبى وابن كثير وابن القيم وغيرهم
ففي هذا دليل على ضعف هذا الحديث وكونه منكرا، والله أعلم
ويؤيد هذا قوله صلى الله عليه وسلم: " المائد في البحر الذي يصيبه القيء له أجر شهيد الغرق والغرق له أجر شهيدين "، رواه أبو داود والبيهقي عن أم حرام رضي الله عنها بسند حسن وهو مخرج في " الإرواء (1149)
ففيه حض على ركوب البحر حضا مطلقا غير مقيد بغزوونحوه، وفيه دليل على أن الحج لا يسقط بكون البحر بينه وبين مكة، وهو مذهب الحنابلة وأحد قولي الشافعي، وقال في قوله الآخر: يسقط، واحتج له بعضهم بهذا الحديث المنكر كما في " التحقيق " لابن الجوزي (2 / 73 - 74) وذلك من آثار الأحاديث الضعيفة
পরিচ্ছেদঃ
৪৮৫। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার থেকে সব কিছুকেই ভয় পাইয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করল না, আল্লাহ তাকে সব কিছু হতে ভয় পাইয়ে দিবেন।
হাদীসটি মুনকার।
এটি কাযাঈ (২/৩৬) আমের ইবনুল মুবারাক আল-আল্লাফ সূত্রে সুলায়মান ইবনু আমর হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল। সুলায়মান ইবনু আমর ছাড়া সনদটির অন্য কোন বর্ণনাকারীকে চিনি না। আমার ধারণা তিনি হচ্ছেন সুলায়মান ইবনু আবী সুলায়মান, তার নাম ফিরোয। তাকে বলা হয় আমর আবু ইসহাক শায়বানী, তিনি নির্ভরযোগ্য।
অতঃপর আমার নিকট “তাহযীবুল কামাল" এবং “আল-লিসান” গ্রন্থ দেখার পর যখন স্পষ্ট হয়েছে যে, এ সুলায়মান হচ্ছেন সুলায়মান ইবনু ওয়াহাব আন-নাখ’ঈ, তখনই আমার অন্তরে উদয় হয়েছে যে, এ সুলায়মান ইবনু আমরই হচ্ছেন হাদীসটির সমস্যা। ইবনু তাহের বলেনঃ তার দাদা হচ্ছেন ওয়াহাব আর তিনি হচ্ছেন সুলায়মান ইবনু আমর। ফলে আমার নিকট সুস্পষ্ট হয়েছে যে, এ সুলায়মান হচ্ছেন মিথ্যুকু, প্রসিদ্ধ জালকারী। তার কয়েকটি হাদীস পূর্বেও আলোচিত হয়েছে।
হাদীসটি মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (৪/১৪১) আবুশ শায়খের বর্ণনা উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীসটি মারফু হিসাবে মুনকার। অনুরূপভাবে হাফিয ইরাকী “তাখরাজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (২/১২৮) উল্লেখ করে বলেছেনঃ উকায়লীর "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে অনুরূপভাবে আবু হুরাইরাহ (রাঃ)-এর হাদীসেও এসেছে। কিন্তু দুটি হাদীসই মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার কথার মধ্যে শিথিলতা স্পষ্ট কারণ এটির সনদেও মিথ্যুক বর্ণনাকারী রয়েছেন যার সম্পর্কে ৪৫৪৪ নং হাদীসের আলোচনায় আসবে।
من خاف الله خوف الله منه كل شيء، ومن لم يخف الله خوفه الله من كل شيء
منكر
-
رواه القضاعي (36 / 2) عن عامر بن المبارك العلاف قال: أخبرنا سليمان بن عمرو عن إبراهيم بن أبي علقمة عن واثلة بن الأسقع مرفوعا
قلت: وهذا سند ضعيف، لم أعرف أحدا من رجاله غير سليمان بن عمرو، وأظنه سليمان بن أبي سليمان واسمه فيروز ويقال: عمرو أبو إسحاق الشيباني مولاهم الكوفي وهو ثقة
ثم تكشفت لي - والحمد لله - علة الحديث، فقد رجعت إلى ترجمة إبراهيم بن أبي عبلة من " تهذيب الكمال "، فوجدته قد ذكر في الرواة عنه سليمان بن وهب، فألقي في النفس: العلة سليمان بن عمرو هذا، فرجعت إلى " اللسان " فوجدت فيه ما نصه: سليمان بن وهب النخعي، أخرج أبو الفضل بن طاهر في الكلام على أحاديث الشهاب من طريق يحيى بن عثمان بن صالح عن سليمان بن وهب عن إبراهيم بن أبي عبلة عن خالد بن معدان عن أبي الدرداء رضي الله عنه رفعه: فذكر حديثا ... قال ابن طاهر: سليمان بن وهب هو النخعي، ووهب جده، وهو سليمان بن عمرو
، وقد تقدم
قلت: فتبين لي أن سليمان بن عمرو هذا هو النخعي، وهو كذاب وضاع مشهور بذلك، وقد تقدمت له أحاديث، فراجع " فهرست الرواة " في آخر المجلد
ولعل من التساهل أيضا قول السخاوي في " المقاصد " بعد أن ذكره من حديث واثلة والحسين بن علي وابن مسعود: وفي الباب عن علي، وبعضها يقوي بعضا
وذلك لأن حديث واثلة وابن مسعود لا يجوز الاستشهاد بها، لشدة ضعفها، وحديث الحسين وعلي لم يذكر من حال إسنادهما ما يمكن أن يقوى أحدهما بالآخر
والحديث ذكره المنذري في " الترغيب " (4 / 141) من رواية أبي الشيخ في " الثواب "، ثم قال: ورفعه منكر
وكذلك ذكره الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (2 / 128) وزاد
وللعقيلي في " الضعفاء " نحوه من حديث أبي هريرة، وكلاهما منكر
قالت: فيه تساهل واضح، فإن في إسناد هذا كذابا أيضا، كما سيأتي بيانه برقم (4544)
পরিচ্ছেদঃ
৪৯৮। যে ব্যক্তি সফরে রমযান মাসে সওম রাখে সে মুকিম অবস্থায় ইফতার কারীর (যে সওম রাখে না) ন্যায়।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইবনু মাজাহ্ (১/৫১১), হায়সাম ইবনু কুলায়েব “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/২২) এবং যিয়া “আল-মুখতারা” গ্রন্থে (১/৩০৫) উসামা ইবনু যায়েদ সূত্রে ইবনু শিহাব হতে, তিনি আবু সালমা ইবনু আবদির রহমান হতে, তিনি তার পিতা আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল দুটি কারণেঃ
১। ইনকিতা (সনদে বিচ্ছিন্নতা)। কারণ আবু সালমা তার পিতা হতে শুনেননি, যেমনভাবে "ফাতহুল বারীর" মধ্যে এসেছে।
২। উসামা ইবনু যায়েদের হেফযে দুর্বলতা ছিল। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার বিরোধিতা করেছেন। তিনি হচ্ছেন ইবনু আবী যি’ব। তিনি এটিকে ইবনু শিহাব হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
এটি নাসাঈ (১/৩১৬) এবং ফিরইয়াবী “আস-সিয়াম” গ্রন্থে (৪/৭০/১) তার থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যার জন্য বাইহাকী “সুনান” গ্রন্থে (৪/২৪৪) বলেনঃ হাদীসটি মওকুফ। তার সনদটিতে ইনকিতা সংঘটিত হয়েছে এবং মারফু হিসাবে যেটি বর্ণনা করা হয়েছে, সেটির সনদটি দুর্বল।
হ্যাঁ; আবু কাতাদ আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াকিদ হাররানী হাদীসটি মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ আবু কাতাদা মাতরুক। আর তার সূত্রে আরেক বর্ণনাকারী আছেন, তিনিও দুর্বল।
এটি আল-খাতীব (১১/৩৮৩) উল্লেখ করেছেন।
নাসাঈ ইবনু আবী যি’ব সূত্রে মওকুফ হিসাবেও বর্ণনা করেছেন। তার সনদটি সহীহ। এটি এ সিদ্ধান্তকেই সুদৃঢ় করছে যে, আব্দুর রহমান ইবনু আউফ হতে মারফু হিসাবে হাদীসটি ভুল।
যিয়া উল্লেখ করেছেন যে, দারাকুতনী হাদীসটিকে আব্দুর রহমান হতে মওকুফ হিসাবে সহীহ বলেছেন।
صائم رمضان فى السفر كالمفطر فى الحضر
منكر
-
رواه ابن ماجه (1 / 511) والهيثم بن كليب في " المسند " (22 / 2) والضياء في " المختارة " (1 / 305) من طريق أسامة بن زيد عن ابن شهاب عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبيه عبد الرحمن بن عوف مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف وله علتان
الأولى: الانقطاع لأن أبا سلمة لم يسمع عن أبيه كما في " الفتح "
الثانية: أسامة بن زيد في حفظه ضعف، وقد خالفه الثقة وهو ابن أبي ذئب فرواه عن الزهري ابن شهاب به موقوفا
رواه النسائي (1 / 316) والفريابي في " الصيام " (4 / 70 / 1) من طرق عنه ولذلك قال البيهقى في " السنن " (4 / 144)
وهو موقوف، وفي إسناده انقطاع، وروى مرفوعا وإسناده ضعيف
نعم رواه أبو قتادة عبد الله بن واقد الحراني عن ابن أبي ذئب به مرفوعا، لكن أبا قتادة هذا متروك، وفي الطريق إليه آخر ضعيف أخرجه الخطيب (11 / 383)
وقد رواه النسائي من طريق ابن أبي ذئب عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف عن أبيه موقوفا أيضا، وإسناده صحيح، فهذا يؤيد خطأ من رفعه عن عبد الرحمن بن عوف، وقد ذكر الضياء أن الدارقطني أيضا صحح وقفه على عبد الرحمن
পরিচ্ছেদঃ
৪৯৯। ধৈর্য হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক। আর বিশ্বাস হচ্ছে পুরো ঈমান।
হাদীসটি মুনকার।
এটি ইবনুল আরাবী তার "আল-মুজাম" গ্রন্থে (২/৫৬), তাম্মাম আর-রাযী (৯/১৩৮/১), আবুল হাসান আযদী "পাঁচটি মজলিসের প্রথমটিতে" (১৬-১৭), আবু নুয়াইম “আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৫/৩৪), আল-খাতীব তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে (১৩/২২৬), তার থেকে ইবনুল জাওয়ী "ইলালুল মুতানাহিয়া" গ্রন্থে (১৩৬৪) এবং কাযাঈ তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (৬ বা /২) ইয়াকুব ইবনু হুমায়েদ ইবনে কাসেব সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ মাখযুমী হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আবু নুয়াইম এবং আল-খাতীব বলেছেনঃ মাখযুমী সুফিয়ান হতে এ সনদে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল জাওয়ী বলেনঃ তিনি মাজরুহ (সমালোচিত)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ এ মতনটি (ভাষাটি) ইমাম বুখারী “কিতাবুল ঈমান”-এর মধ্যে মুয়াল্লাক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ আবু আলী নাইসাপূরী বলেছেনঃ এ হাদিসটি মুনকার। যুবায়েদ এবং সাওরীর হাদীস হতে তার কোন ভিত্তি নেই।
ইবনু হাজার “ফাতহুল বারী" গ্রন্থে (১/৪১) বলেছেনঃ الصبر نصف الإيمان এ অংশটুকু আবু নুয়াইম ও বাইহাকী “আয-যুহুদ” গ্রন্থে ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। মারফু’ হিসাবে সাব্যস্ত হয়নি।
বাইহাকী আল-আদাব” গ্রন্থে (পৃ.৪০৪) বলেনঃ মওকুফ হিসাবেই সহীহ।
الصبر نصف الإيمان واليقين الإيمان كله
منكر
-
رواه ابن الأعرابي في " معجمه " (56 / 2) وتمام الرازي (9 / 138 / 1) وأبو الحسن الأزدي في " المجلس الأول من المجالس الخمسة " (16 - 17) وأبو نعيم في " الحلية " (5 / 34) والخطيب في " تاريخه " (13 / 226) والقضاعي في " مسنده " (6 ب / 2) من طريق يعقوب بن حميد بن كاسب عن محمد بن خالد المخزومي عن سفيان الثوري عن زبيد الأيامي عن أبي وائل عن ابن مسعود مرفوعا، وقال أبو نعيم والخطيب: تفرد به المخزومي عن سفيان بهذا الإسناد
قلت: والمخزومي هذا، قال الذهبي في الميزان
قال ابن الجوزي: مجروح، قلت، له عن الثوري.... مرفوعا: اليقين الإيمان كله، وهذا المتن ذكره البخاري تعليقا في كتاب الإيمان، ولم يقل فيه: قال النبي صلى الله عليه وسلم
وقال الحافظ في " اللسان ": قال أبو علي النيسابوري: هذا حديث منكر لا أصل له من حديث زبيد ولا من حديث الثوري، وقال في " الفتح " (1 / 41)
هذا التعليق طرف من أثر وصله الطبراني بسند صحيح، وبقيته: والصبر نصف الإيمان، وأخرجه أبو نعيم والبيهقي في الزهد من حديثه يعني ابن مسعود ولا يثبت رفعه
قلت: ويعقوب بن حميد فيه ضعف من قبل حفظه وبه أعل الحديث المناوي وهو قصور بين، ثم ذكر عن البيهقي أنه قال: والمحفوظ عن ابن مسعود من قوله غير مرفوع
وقال البيهقي في الآداب (ص 404)
والموقوف أصح